Share |

করোনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মৃত্যুঝুঁকি ‘দ্বিগুণ’ : কেনো, দায় কার?

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি বলে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য মতে, এদেশে বসবাসকারী শ্বেতাঙ্গসহ অন্যান্য সব জাতিগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা। পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের ৮৯ পৃষ্ঠার গবেষণা প্রতিবেদনের সারাংশে বলা হয়, কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার ছিল সবচেয়ে বেশি।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্বেতাঙ্গদের চেয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের করোনাভাইরাসে মৃত্যুঝুঁকি দ্বিগুণ। শুধু তা-ই নয়, এদেশের বসবাসকারী অন্যান্য সম্প্রদায়?যেমন চীনা, ভারতীয়, পাকিস্তানি, অন্যান্য এশীয়, ক্যারিবিয়ান ও অন্যান্য কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের মৃত্যুঝুঁকির চেয়েও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ঝুঁকি অনেক বেশি। এই গবেষণা বলছে, অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মৃত্যুঝুঁকি?শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ১০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। সরকারি হিসাবে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে এই রোগে মারা গেছেন ৪৯ হাজার ৩৬৮ জন। পাশাপাশি, গবেষণায় দেখা যায়, গত ১৩ মে পর্যন্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০৮ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১৮২ জন। আর একই সময়ে শ্বেতাঙ্গ মৃতের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ৮৮০ জন। অপরদিকে পাকিস্তানি ৪৮৩, ভারতীয় ৭৪৬ এবং আফ্রো-ক্যারিবীয় ১ হাজার ১৪৩ জন মারা গেছেন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অর্থাৎ কালো ও এশীয়রা এই রোগে এই দেশে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারের চেয়ে অনেক বেশি মারা যাওয়ায় এর কারণ খুঁজে বের করার দাবি ওঠার পরই কেবল এ বিষয় নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড।
এক্ষেত্রে আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণায় মানুষের পেশা ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্যগত বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো কেনো বাদ দেওয়া হলো? অথচ কোভিড-১৯ এ মৃত্যুঝুঁকির ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আগে থেকে অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি থাকে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কিন্তু আগে থেকেই এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজন যে, এই বৈষম্যলালিত সমাজে স্বাস্থ্যগত বৈষম্যেরও শিকার সে কথাটি কে বলবে? আর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দায়-ই বা কার? নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের। তবে গবেষণাটির আরেকটি দিক একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে। আর তা হচ্ছে, উন্নত এলাকার চেয়ে অনুন্নত অর্থাৎ দরিদ্র এলাকার বাসিন্দাদের মৃত্যুঝুঁকি বেশি। এখন দেখা দরকার দরিদ্র এলাকার মানুষের ঝুঁকি কেনো বেশি। এ উত্তরটা আমাদের অনেকটাই জানা। অভাব-অনটনের নানা বাস্তবতার পাশাপাশি এরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যগত বৈষম্যেরও শিকার।
আমরা জানি রাষ্ট্র এবং এর নানা প্রতিষ্ঠান ও এজেন্সী যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা কায়েম করে রেখেছে তারা সহজে এর দায়-দায়িত্ব নিতে চাইবে না। বরং ঝুঁকির মুখে থাকা মানুষদের ঘাড়েই সব দোষ চাপানোর চেষ্টা করবে।?সুতরাং আমাদের এখন দাবি তুলতে হবে, মানুষের পেশা অন্তর্ভূক্ত করে আবার গবেষণা হোক। তাতে রাষ্ট্রের আর প্রতিষ্ঠানের দায়টা স্পষ্ট হবে। এরপর তাদেরকে সেই দায়?নিতে বাধ্য করতে হবে।