Share |

প্রতারণা ও পাচারের অভিযোগে বিদেশের হাজতে বাংলাদেশের এমপি: ‘লজ্জা পেয়েছেন’ মন্তব্য যথেষ্ট নয়, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিন

প্রতারণা, মানবপাচার আর  ভিসা-বাণিজ্যে অনৈতিক আয়ের বড় অংশ মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ভিনদেশে সরিয়ে নেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশের এমপি পাপুলকে নিয়ে তোলপাড় চলছে নানা দেশের মিড়িয়ায়।
এসব অভিযোগ খুবই গুরুতর। প্রকাশিত প্রতিবেদন মতে, কুয়েত সিটিতে তার কোম্পানির মূলধন ৩ মিলিয়ন দিনার এবং ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ২ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার সন্দেহজনক বলে ওই লেনদেনের অভিযোগে চলমান মামলার চূড়ান্ত নি?ত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি পাপুল বা তার সহযোগীরা ব্যাংক থেকে সরাতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এদিকে, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি পাপুলের স্বীকারোক্তি মতে তার একের পর এক সহযোগী ধরা পড়ছেন। সর্বশেষ ধরা পড়া দেশটির স্বরাষ্ট্র ও জনশক্তি বিভাগের তিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে শনিবার আদালতে জেরা করে তাদের বক্তব্য বা জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্র বলছে, মানব, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন জালিয়াতিতে জড়িত এমন কয়েক শ ব্যক্তির তালিকা করেছে কুয়েত সরকার। সেই তালিকা ধরেই সম্প্রতি বিতর্কিত শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। সেই অভিযানেই গ্রেপ্তার হন বাংলাদেশের এমপি পাপুল।
এছাড়া মানবপাচারকারীদের নাম পেয়েছেন তদন্তকারীরা সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের ‘মানবপাচারচক্রের’ সঙ্গে জড়িতদের নাম পেয়েছেন কুয়েতের তদন্তকারীরা। কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস আল-সালেহ গত বুধবার এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি মানবপাচারচক্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে পাপুলের দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে গত বুধবার কুয়েতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এমপি পাপুল কিভাবে কুয়েতে ঢুকেছেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ওই দেশটির সংসদে।
কুয়েতের দৈনিক আল রাই পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাপুলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেওয়া ব্যক্তিরা তাঁকে ‘মাফিয়া বস’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশের একজন সাংসদ বিদেশে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এটি দেশের জন্য লজ্জাজনক।
আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, একজন মানুষ এমপি হয়েও এত গুরুতর অপরাধে লিপ্ত থাকার পরও  এতোদিন ধরে তিনি কীভাবে বাংলাদেশের আইনশৃঙক্ষলা ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করতে সক্ষম হলেন?
সমগ্র জাতির জন্য?লজ্জা বয়ে?আনা এই এমপির বিষয়ে?সরকার এখন কী ব্যবস্থা নেয় তা-ই এখন দেখার বিষয়।?তিনি বিদেশে বাংলাদেশকে ডুবিয়ে?দেওয়ার পরও তার অবস্থান হবে তা নির্ভর করবে সরকারের সদিচ্ছার ওপর।
আমরা মনে করি, এই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের সংসদের মানসম্মানের প্রশ্ন জড়িত, তাই এ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।
আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন লজ্জা পাওয়ার কথা বলেছেন। আমাদের কথঅ হলো- ‘লজ্জা পেয়েছেন’ মন্তব্য যথেষ্ট নয়, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেবার কার্যকর পদক্ষেপ নিন। এটি বাংলাদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রকাশ করে দিয়েছে।