Share |

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যাবস্থায় কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব : সংকট ও সমাধান

সওগাত আশরাফ খান
গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিনে চীনের উহানে কোভিড-১৯ এর ঘটনা প্রথমবারের মত ধরা পড়ার পর এবছরের ১৭ই মার্চ থেকে বাংলাদেশের সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছে না কবে পুনরায় স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। সকল পর্যায়ের প্রায় পাঁচ কোটি শিক্ষার্থী আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে বাসায় আক্ষরিক অর্থেই বন্দী। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সময়মত অনুষ্ঠিত না হওয়া, উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি বিলম্ব হওয়া, বিদ্যালয়গুলোর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়া- সব মিলিয়ে ধারণা করা যায় শিক্ষাসূচীতে বড় সংকটই তৈরি হবে এই মহামারীর পর।
সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করেছে। কিছু বেসরকারি বিদ্যালয় অনলাইনে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে। গুটিকয়েক পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পাঠদানের মাধ্যমে সেশনজটের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু তাতে সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা বলেই অভিমত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। ইউনেস্কোর তথ্যমতে, কোভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বব্যাপী ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই মহামারীর সময়ে তাদের পাঠদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বাভাবিক গতি ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অনলাইনভিত্তিক পাঠদানের বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করে তারা সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় কোভিড-১৯ মহামারীজনিত অচলাবস্থা অনেকটাই কাটানোর চেষ্টা করছে। এমনকি কোন কোন দেশ তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাদান পদ্ধতি ঢেলে সাজিয়ে শ্রেণীকক্ষভিত্তিক পাঠদান পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করার পরিকল্পনা করছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় সত্যিকারের সুফল পেতে বেশ কিছু সংকট বিদ্যমান। কিন্তু এও সত্য যে উদ্ভুত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে না পারলে জাতি হিসেবে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে যাবো আগামী দিনে।
আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি শ্রেণীকক্ষকেন্দ্রিক। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ শিক্ষকেরা যেমন প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা রাখেন না, তেমনি শিক্ষার্থীরাও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারে অনভ্যস্ত। তাই শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েরই বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কিন্ত এছাড়াও কাঠামোগত কিছু সমস্যা আমাদের দেশে বিদ্যমান যা অনলাইনে শিক্ষাদানের পথে অন্তরায় হয়ে দাড়ায়। অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রথম শর্ত হল শিক্ষার্থীদের কাছে উপযুক্ত প্রযুক্তিপণ্যের প্রাপ্যতা এবং উন্নত ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছেই অনলাইনে পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিরপণ্য, যেমন ব্যক্তিগত কম্পিউটার, সহজলভ্য নয়। এছাড়া ২০১৪ সালে থ্রি-জি ও ২০১৮ সালে ফোর-জি সেবা চালু হওয়া সত্ত্বেও অনেক মফস্বল শহরে এখনো ফোর-জি সেবা এবং গ্রামাঞ্চলে থ্রি-জি সেবা পাওয়া দুষ্কর। শহরাঞ্চলে ভাল নেটওয়ার্ক সেবা পাওয়া গেলেও সেবার মূল্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে। একইসাথে বিঘিœত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে প্রায়ই প্রযুক্তি ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, কোভিড-১৯ মহামারী থেকে খুব দ্রুত হয়ত মুক্তি মিলবে না। গবেষণা বলছে, এই মহামারীর প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে অন্তত কয়েক বছর। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে আমাদেরকে ভবিষ্যৎ শিক্ষাপদ্ধতির স্বরূপ নিয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে। শিক্ষা কোন স্থবির বিষয় নয়। সময়ের সাথে সাথে শিক্ষা প্রদান ও গ্রহণ প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটে। এই মহামারী আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনে যেসব ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই বড় পরিবর্তন আনবে শিক্ষাব্যবস্থা তার মধ্যে অন্যতম। মহামারীর সামনের দিনগুলোতে পাঠদান এগিয়ে নিতে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা জরুরী, কারণ এর মাধ্যমে শিক্ষা এবং শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনেক খাতে মহামারীজনিত ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেয়া যাবে। এবং একইসাথে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাও জরুরী কোভিড-১৯ মহামারীর মত স্বাস্থ্য দুর্যোগে পরিস্থিতি সামাল দিতে।
করোনাভাইরাসের কারণে এবছরের শিক্ষাসূচীতে থাকা অন্তত চারটি পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে স্থগিত রাখা হয়েছে এইচএসসিও সমমানের পরীক্ষা। আগামী নভেম্বরে নির্ধারিত পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির দুটি সমাপনী পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীরা দ্বিধান্বিত। বাসায় থাকতে থাকতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও অবনতি ঘটছে। এইচএসসি পরীক্ষা না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিও আটকে আছে যা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের বড় একটি ধাপ। আমাদেরকে ভাবতে হবে কিভাবে সামাজিক দূরত্বায়ন নিশ্চিত করেও পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা যায়। পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে এবং কয়েকটি শিফটে পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে আমরা পাবলিক পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে পারি। নির্ধারিত সময়ে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা নেওয়া হলেও সিলেবাস আনতে হবে পরিবর্তন। এবং সেই সীমিত সিলেবাসের পরিধি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আগে থেকে জানাতে হবে। তা না হলে শিক্ষার্থীদের উপর চাপ যেমন বাড়বে, তেমনি ঝরে পড়ার হারও বৃদ্ধি পাবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদেরকে কয়েকটি শিফটে ভাগ করে শ্রেণী কার্যক্রম চালানো ও পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রেও সিলেবাস কমিয়ে আনতে হবে যেন শিক্ষার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি না হয়। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কেন্দ্রিয়ভাবে সকল শ্রেণির সিলেবাস পুনঃমূল্যায়ন করতে পারে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটিগুলোর সমন্বয় এবং সপ্তাহে ছয়দিন পূর্ণ কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করতে হবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ ক’বছর ধরে আলোচনা চলছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় তাতে সায় দিলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এখনও সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এখনই সম্ভবত সবচেয়ে উপযুক্ত সময় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করার। কেননা অন্যান্য বছরের মত এবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এক শহর থেকে অন্য শহরে ভর্তি পরীক্ষার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করা অনভিপ্রেত ঠেকবে এবং তা দেশব্যাপি স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে। সুতরাং সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি এক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান। সার্বিক ব্যবস্থা যতটা বিকেন্দ্রিকরণ করা যায় ততই মঙ্গল।
আপদকালীন এসব পরিকল্পনার পাশাপাশি আমাদেরকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশে একটি শিক্ষাবিষয়ক টেলিভিশন চ্যানেলের প্রয়োজনীয়তা বেশ কয়েক বছর ধরে অনেক শিক্ষাবিদ বলে আসছেন। কিন্ত বর্তমান সময়ে তার প্রয়োজন বেশ ভালভাবেই উপলব্ধি করা যাচ্ছে। একটি শিক্ষাবিষয়ক টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদেরকে দেশের সবচেয়ে দক্ষ শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া যায়। একইসাথে এর মাধ্যমে শিশুদের উপযোগী আনন্দদায়ক ও শিক্ষামূলক কন্টেন্ট প্রচারের মাধ্যমে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করা যায়। তাইএকটি শিক্ষাবিষয়ক চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করা উচিত। প্রতিটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা এবং তা শিক্ষকদের দ্বারা নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ আরও জোরদার ও কার্যকর করতে হবে যেন শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়ের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে সহজেই প্রয়োজনীয় সকল শিক্ষা উপকরণ, যেমন- প্রতিদিনের শ্রেণির পাঠদান, বাড়ির কাজের নির্দেশনা, অধ্যায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রেজেন্টেশন,  নিজেকে যাচাই এর জন্য কুইজ ইত্যাদি পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ পদ্ধতিতে প্রতিটি ক্লাস রেকর্ড করে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ওয়েবসাইটে সরবরাহ করতে হবে যেকোনো শিক্ষার্থী যেন তা পেতে পারে। ওয়েবসাইট তৈরি এবং শিক্ষার্থীরা যেন খুব সহজে তা ব্যবহার করতে পারে তার জন্য দেশের দক্ষ তরুণ মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদেরকে শ্রেণীকক্ষে জোড়-বিজোড় রোল নাম্বারের ভিত্তিতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা যেতে পারে। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কাছে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সামগ্রী সহজলভ্য করার জন্য দেশে তথ্য-প্রযুকিক্ত খাতে বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি এবং স্বল্পমুল্যে উৎপাদন উৎসাহিত করতে হবে। সরকারি পর্যায়ে ব্যান্ড উইথের দাম ২০০৯ সালে ২৭,০০০ টাকা থেকে ২০১৯ সালে কয়েক ধাপে হ্রাস করে ১৮০ টাকায় নিয়ে এলেও ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ডেটার দামে সেটির প্রতিফলন নেই। অথচ দেশে ব্যান্ড উইথের ব্যবহার গত ১০ বছরে প্রায় দেড়শ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন তাদের নীতিমালার মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে ইন্টারনেট ডেটার দাম কমিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষমূল্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট অপারেটর এবং আইএসপিগুলোকে বাধ্য করতে পারে। সামগ্রিকভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতি সাধনের জন্য বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।
নিম্নস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা স্কুল-কলেজের জন্য পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়া যতটা কঠিন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ততটা কঠিন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তথ্য-প্রযুক্তি অবকাঠামো তুলনামূলক ভালো। কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে দেশের সর্বোচ্চ স্তরের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করে তুলতে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সব কোর্সকে অনলাইনে রূপান্তর করতে হবে এবং নিয়মিত তা আপডেট করতে হবে। সর্বোপরি, অন-ক্যাম্পাস শিক্ষার পাশাপাশি যেন সমান্তরালভাবে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ করা যায়- এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও অর্জিত জ্ঞান বিনিময়সংক্রান্ত চুক্তি (কালাবরেশন) রয়েছে। সুতরাং এক্ষেত্রে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিগরি সহযোগিতা এবং পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে।
প্রবাদ আছে - “প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের জনক”। মানবজাতির দীর্ঘ ইতিহাস ঘাঁটলে তাতে নানান দুর্যোগ থেকে মানুষের বেঁচে ফিরে আসার গল্প শোনা যায়। আর কোভিড-১৯-এর মত বৈশ্বিক মানবিক দুর্যোগ দেখা দিলে তা থেকে যখন মানুষ লড়াই করে ফিরে আসবে, তখন সমাজ, রাষ্ট্র, অঞ্চল- প্রতিটা স্তরেই প্রায় সব ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। ভবিষ্যতের পৃথিবীতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য এসব পরিবর্তনের সাথে দ্রুত তাল মেলানো আমাদের মত উদীয়মান রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত জরুরী। আশা এবং বিশ্বাস আমরাও ঘুরে দাঁড়াব।

সিলেট, ১লা জুলাই ২০২০
লেখক : শিক্ষার্থী, অর্থনীতি চতুর্থ বর্ষ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।