Share |

বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সঙ্কট : ‘নবাবজাদাদের কাণ্ডজ্ঞান’ দায়ী?

সপ্তাহ দুয়েক আগে ১২৫ জন বাংলাদেশিকে ইতালির বিমান বন্দর থেকে ফিরিয়ে?দিয়েছে ইতালির কর্তৃপক্ষ। পরে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত নিয়ে গেছে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমান। এটা ভাবার সঙ্গত কারণ রয়েছে যে, করোনা সংক্রমণের ভয়ে দেশটির কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের অংশ হিশেবেই ইতালি এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
কিন্তু এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বক্তব্যে?আমরা যারপরনাই হতাশ। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে ইতালিতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিলো তা নিয়ে বিবিসি বাংলায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.কে আব্দুল মোমেন যে মন্তব্য করেছেন তা নিতান্তই  অনভিপ্রেত বলে আমরা মনে করি।
ওই ফ্লাইটে ইতালি যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা তো বাংলাদেশের সরকারের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সনদ নিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। এসব সনদ কে দিয়েছে? কারা দিয়েছে? এখন সরকারের গাফিলতির সুযোগ নিয়ে কিংবা রাষ্ট্রের অসাধু কর্মচারিদের যোগসাজশে সেসব প্রতিষ্ঠান যদি ভুয়া সনদ দিয়ে থাকে তাহলে সেটি কি শুধুই প্রবাসীদের দোষ?
আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে একমত যে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে ইতালিতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটিকে দু:খজনক। কিন্তু এর দায়?রাষ্ট্রের স্তরে স্তরে দুর্নীতি আর অনিয়মের বদলে?তিনি পুরোটাই প্রবাসীদের ওপর অন্যায্যভাবে চাপিয়ে?দিয়েছেন।
এ নিয়ে বিবিসিতে দেয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কয়েকটি উদ্বৃতি এখানে আমরা উল্লেখ চাই। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে কি না এ প্রশ্নে জনাব এ.কে আব্দুল মোমেন বলেছেন,
“অবশ্যই ক্ষুণœ হচ্ছে। পজিটিভ নিয়ে চলে গেল, তারপরে ওখানকার আইন-কানুন মানল না। এগুলো তো খুবই দু:খজনক।”
মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন হতে পারে, বাংলাদেশের আইন ফাঁকি দিয়েই তো এসব দুর্নীতি হচ্ছে। সনদ জালিয়াতি ঠেকানো কি প্রবাসীদের কর্ম?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, কিছু বাংলাদেশির কারণে ইতালিতে বাংলাদেশের নাগরিক সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরি হচ্ছে। আসলেই কি তা-ই? বাংলাদেশ সম্পর্কে বিশ্বে বিরূপ ধারণা কিসে কিসে হচ্ছে তা আবিষ্কারের জন্য খুব বেশি গবেষণার প্রয়োজন নেই।
এ ব্যাপারে সরকারের দায়ের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবাসীদের ওপর অহেতুক ক্ষোভ ঝেড়েছেন। তিনি বলেন, “এটা সরকারের উপর আসে না। এদের অনেকেই ইতালির নাগরিক। তারা কাণ্ডজ্ঞানহীন কেন?”
এ.কে আব্দুল মোমেন আগে প্রবাসীদের তাচ্ছিল্য করে ‘নবাবজাদা’ অভিহিত করেছিলেন। এবার তারা মন্ত্রীর কাছ থেকে কাণ্ডজ্ঞানহীন অভিধা পেলেন।
একই সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটিতে বিদ্যমান ভুয়া আর জালিয়াতি প্রকারান্তরে স্বীকার করেই বলেছেন, বাংলাদেশে থেকে কেউ যাতে ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে বিদেশে যেতে না পারে, সেটি সরকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ভুয়া টেস্টের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এই সাক্ষাতকারে তাঁর সবচেয়ে?তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য?হচ্ছে- দুনিয়ার সব দেশেই অপকর্ম হয়। আমাদের দেশে অপকর্ম হলে আমরা এগুলোর শাস্তি দেই। শাস্তি দেই বলেই আমাদের একটা সম্মান আছে,”। আমরা আশা করি, মন্ত্রীর এই কথা সত্য হবে বাংলাদেশে এখন যেসব তেলেসমাতি অপকর্ম ধরা পড়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রে।