Share |

পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

মুসলমানের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ অন্যতম। প্রতি বছর আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে থাকে। ঈদুল আজহা নিছক কোনো আনন্দ উৎসব নয়- তা আত্মত্যাগের উৎসব। 
আসছে ৩১ জুলাই শুক্রবার ব্রিটেনসহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানরা পালন করবেন পবিত্র ঈদুল আজহা। এছাড়া এক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলমানরা উদযাপন করবেন মহান এ দিনটি। তবে এবারের করোনা মহামারির সময়ে?এই উৎসব পালিত হবে অন্যভাবে। অস্বাভাবিক সময়কে মেনে নিয়েই আমাদের সীমিত আয়োজনে এবারের ঈদ পালন করতে হবে।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য বছরের তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর একটি হচ্ছে এই ঈদুল আজহা। একে কোরবানীর ঈদ নামেও অভিহিত করা হয়। কোরবানীর ঈদের সাথে জড়িয়ে আছে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের চতুর্থ পবিত্র হজ।
হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ সংকল্প করা, ইচ্ছা করা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হজের জন্য নির্ধারিত তারিখ অর্থাৎ ৮ থেকে ১৩ জিলহজ্ব পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ে পবিত্র ঘর ক্বাবা এবং মক্কা ও মদীনার কয়েকটি বিশেষ স্থানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সা.) নির্দেশ অনুযায়ী জিয়ারত, তাওয়াফ, অবস্থান করা এবং নির্দিষ্ট অনুষ্ঠানাদি পালন করাই হজ।
হজ দৈহিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে অথচ হজ আদায় করেন না, তার জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি। এই ফরজ হজ আদায় করতে প্রতি বছরই এই সময়ে?পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থান করেন বিশ্বের নানা দেশ থেকে যাওয়া লক্ষ লক্ষ মানুষ। কিন্তু এবার করোনা মহামারির কারণে বাইরের দেশ থেকে হজ করতে যাওয়ার সুযোগ নেই। এক হাজারেরও কম মানুষ অংশ নিতে পারবেন মুসলমানদের বার্ষিক এই বৃহত্তম সম্মেলনে। বিশেষ পরিস্থিতিতে এবারের হজ হলেও আমাদের প্রার্থনা থাকবে মহান আল্লাহ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে আগামী বছর থেকে যেন মুসলিম উম্মাহকে হজ আদায়ের সুযোগ দান করেন।
হজের অনেকগুলো আনুষ্ঠানিকতার একটি হচ্ছে কোরবানী। এর সাথে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্যাগের উজ্জল নিদর্শন। মহান আল্লাহর আদেশে তাঁরই সন্তুষ্টি লাভের জন্য হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম স্বীয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানী দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে প্রাণে রক্ষা করেও মহান আল্লাহ হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর সর্বাত্মক সমর্পণ কবুল করেছিলেন। এটি ছিলো হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর জন্য তাকওয়ার পরীক্ষা। তাঁকে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে মহান আল্লাহ এ ঘটনাকে মানবজাতির জন্য এক দৃষ্টান্ত হিশেবে হাজির করে দিলেন।
কোরবানীর মধ্যদিয়ে মহান আল্লাহ দেখতে চান তাঁর বান্দা তার নামে পার্থিব দুনিয়ার কতটুক উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। ইসলাম ধর্মমতে, কোরবানীর রক্তমাংশ কিছূই আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, বরং জবাইয়ের পর পশুর রক্ত প্রবাহিত হওয়ার আগেই বান্দার কোরবানী তাঁর নিকট পৌঁছে যায়। অর্থাৎ কোরবানীর একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে - মহান আল্লাহর কাছে বান্দার আত্মসমর্পণ, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভ। মহান আল্লাহতায়লা সবাইকে সেই তাক্বওয়া অর্জনের তওফিক দিন।
নিজেদের আনন্দে অন্যদের শরিক করা ঈদুল আজহার শিক্ষা। কোরবানির গোশত তিন অংশে ভাগ করে এক অংশ নিজের জন্য সংরক্ষণ, দ্বিতীয় অংশ আত্মীয়স্বজনকে দেয়া এবং তৃতীয় অংশ অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেয়াই ইসলামের বিধান। এবারের করোনা মহামারিতে বিশ্বের নানা অঞ্চলে লক্ষ-কোটি মানুষের জীবন বিপন্ন। এই ঈদে তাই বিপন্ন মানবতার সহায়তায় আরো বেশি করে সকলের এগিয়ে?আসা উচিৎ।
সবার জন্য এই ঈদ নিয়ে আসুক অনাবিল আনন্দ। সবাইকে ঈদ মোবারক।