Share |

ইচ্ছার বিরুদ্ধেই বার্সেলোনায় থাকছেন মেসি : মেসি-বার্সেলোনার ‘যুদ্ধের’ ১০ দিন

৪ সেপ্টেম্বর : মেসির খেলা অন্তত আরও এক মৌসুম উপভোগ করতে পারবেন বার্সেলোনা সমর্থকেরা। ১০ দিন ধরে চলা দলবদলের নাটকের পর মেসি জানিয়ে দিলেন, তিনি থাকছেন। দশদিন ধরে স্নায়ুর চরম পরীক্ষা দেওয়া বার্সেলোনা সংশ্লিষ্টরা চাইলে এখন বলতে পারেন- সে থাকছে। ক্লাবের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় অন্তত আরও এক মৌসুম বার্সেলোনাতেই থাকবেন।
দিনটার শুরুও বেশ নাটকীয়ভাবে হয়েছে। মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রথমে বেশ অনিশ্চয়তা ছড়িয়েছে এক বিবৃতি। মেসির বাই আউট ক্লজ নিয়ে গত দশদিন বেশ আলোচনা হয়েছে। প্রথমে সেটি ৭০ কোটি ইউরো জানানো হয়েছিল। উ?ো দিকে মেসি দাবি করেছেন, যেহেতু তাদের মধ্যকার চুক্তির শর্ত মেনেই দল ছাড়ার কথা জানিয়েছেন, তাঁকে মুফতে ছেড়ে দিতে হবে। ওদিকে লা লিগা লিগের সবচেয়ে খেলোয়াড়কে সহজে হাতছাড়া করতে রাজি নয়। তারাও বার্সেলোনার সুর ধরে জানিয়েছে, মেসির চুক্তি পড়ে ৭০ কোটি ইউরোই প্রকৃত বাই আউট ক্লজ মনে হয়েছে তাদের।
শুক্রবার ফুটবল সমর্থকদের আবারও চমকে দিয়েছেন মেসির এজেন্ট ও বাবা হোর্হে মেসি। মেসির হয়ে এক বিবৃতি পড়ে জানিয়েছেন। সেখানে বলেছিলেন, লা লিগা ভুল করেছে। চুক্তির একটি নির্দিষ্ট ধারা ৮.২.৩.৬-এর কথা পড়ে শুনিয়েছেন। বলেছেন, বার্সেলোনা ও মেসির মধ্যকার চুক্তির এ ধারা অনুযায়ী ২০১৯/২০ মৌসুম শেষে চাইলেই যেতে পারবেন, বাই আউট ক্লজ আর প্রযোজ্য হবে না। এমন এক বিবৃতিতেও হাল ছাড়েনি লা লিগা। বার্সেলোনা এ নিয়ে কিছু বলার আগেই তারা বলেছে, না, মেসিকে যেতে হলে ৭০ কোটি ইউরোর ক্লজ মানতে হবে।
এত কিছুর পর মনে হয়েছিল, মেসি-বার্সেলোনা দূরত্ব বেড়েছে। ক্লাব থেকে চলে যেতে চান বলেই তো ক্লজ নেই, এটা প্রমাণ করতে চাইছেন। এমন অবস্থায় মেসি বার্সেলোনাতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, এটা ভাবা যাচ্ছিল না। কিন্তু মেসি ও লিগ কর্তৃপক্ষ পা?াপা?ি ‘বিবৃতি-বিনিময়ে’র কিছুক্ষণ পরই আর্জেন্টিনার টিওয়াইসি স্পোর্টস সে দাবিই তুলে বসলচ্চসবকিছু বিবেচনা করে মেসি নাকি বার্সেলোনাতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্প্যানিশ সময় সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ জানানো হলো, মেসি আজই নিজের পাকা সিদ্ধান্ত জানাবেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় নিজের সিদ্ধান্ত জানাবেন মেসি। এ কারণে মেসির ইনস্টাগ্রামে চোখ রাখার পরামর্শও দেওয়া হলো। সে পরামর্শ মেনে সবাই নিজ নিজ স্মার্ট ফোন অথবা কম্পিউটার ‘রিফ্রেশ’ করতে লাগলেন। মেসি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেন, তা সঙ্গে সঙ্গে পেতে হবে না!
ঘড়ির কাটা ৫টা ছুঁল। না, মেসির ইনস্টাগ্রামে কিছু নেই, কোনো সংবাদমাধ্যমেও কিছু নেই। ৯টা বেজে ৫ মিনিট পার হলো, তবু নিশ্চুপ মেসি। ৯টা ১০, তখনো ‘অল কোয়াইট অন মেসি’জ ফ্রন্ট!’ ৯টা ১৫ হয়ে ২০ও পার হয়ে গেল, কিন্তু তবু মেসির সিদ্ধান্ত জানা হলো না। তবে কি মেসি আবারও মত বদলালেন? আজ আর নিজের সিদ্ধান্ত জানাবেন না? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়ে গেল রসিকতা, মেসি কি স্প্যানিশ বিকেল ৫টার কথা বলছেন নাকি ভুলে আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময়ের কথা বলেছেন? এর মাঝেই আরেকটি খবর এল, যুক্তরাজ্যের সময় বিকেল ৫টাতেই সিদ্ধান্ত জানাবেন মেসি। আবার শুরু হলো ক্ষণ গণনা, আবার শুরু ইনস্টাগ্রামের পেজে গিয়ে ‘রিফ্রেশ’ ‘রিফ্রেশ’ খেলা।
০ার এক মিনিট আগে টিওয়াইসি আগাম জানিয়ে দেয় মেসি কী বলতে যাচ্ছেন একটু পরেই। তিনি নাকি বলবেন, মেসি বার্সেলোনার ওপর খুশি নন এবং এখনই ক্লাব ছাড়তে চান। এবং এ ব্যাপারটা ক্লাব কর্তৃপক্ষকে আগেই জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে কোনোভাবেই ক্লাব ছাড়তে দেওয়া হচ্ছে এবং ক্লাবের সঙ্গে আইনি লড়াইতে যেতে চান না বলেই থেকে যাচ্ছে বার্সেলোনায়। এবং জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ এবং তাঁর অধীনস্থ বোর্ডের কারণে বার্সেলোনার এমন বিপর্যয় রাত দশটায় গোল ডট কমে তাঁর সাক্ষাৎকার চলে আসে। সেখানে মেসি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, এ মৌসুমে বার্সেলোনাতেই থাকছেন।

মেসি-বার্সেলোনার ‘যুদ্ধের’ ১০ দিন
লিওনেল মেসি বার্সেলোনায় থাকছেন। শুক্রবার মেসির বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে সব নাটকের অবসান হয়েছে। সেখানে জানিয়েছেন ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছে এখনো আছে তাঁর। কিন্তু ক্লাব যেহেতু তাঁকে এমনিতে যেতে দিতে রাজি নয়, আইনি পথে হাঁটতে হতো তাঁকে। কিন্তু প্রাণের ক্লাবের সঙ্গে এভাবে সম্পর্ক খারাপ করতে রাজি নন, তাই এ মৌসুমের জন্য বার্সেলোনাতেই থেকে যাচ্ছেন মেসি।
গত ২৫ আগস্ট বার্সেলোনা ছাড়তে চাওয়ার ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন মেসি। এর পর প্রতিদিন রীতিমতো ঝড় উঠেছে সংবাদমাধ্যমে। ক্লাব ও খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে নতুন সব খবর এসে চমকে দিয়েছে সবাইকে। চলুন দেখে নেওয়া যাক গত দুই সপ্তাহে মেসি ও বার্সেলোনার মধ্যে কী কী হলো।  

ঝড়ের পূর্বাভাস

১৪ আগস্ট
বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলে উড়িয়ে দিল বায়ার্ন মিউনিখ। এ ম্যাচের পর জেরার্ড পিকেই প্রথম মুখ খুলেছেন। বলেছেন, ‘তলানিতে চলে এসেছি। ক্লাবে পরিবর্তন দরকার। দরকার হলে আমিই যাব।’

১৬ আগস্ট
কোচ কিকে সেতিয়েনকে ছাঁটাই করল বার্সেলোনা। ক্লাবের এমন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে মেসির মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ, শিরোপাহীন এক মৌসুম কাটানোর হতাশা ভুলতে পরিবার নিয়ে ছুটি কাটাচ্ছিলেন তখন।

২০ আগস্ট
নতুন দায়িত্ব পাওয়া কোচ রোনা? কোম্যানের সঙ্গে দেখা করতে ছুটি থেকে ফিরে এলেন মেসি। সেদিনই গুঞ্জন ছড়াল, মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার কথা ভাবছেন।

২৫ আগস্ট
বোমা ফাটল এদিন। বার্সেলোনাকে বুরোফ্যাক্স পাঠিয়ে মেসি জানিয়ে দিলেন ক্লাব ছাড়তে চান। প্রতি মৌসুম শেষে ক্লাব ছাড়তে পারার শর্তের কথা উল্লেখ করে মেসি জানালেন, এবার বিদায় নিতে চান।

২৭ আগস্ট
ক্লাব সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ জানালেন, মেসি যদি প্রকাশ্যে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন, তাহলে তিনি তাই করবেন।

২৯ আগস্ট

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস দাবি করল, মেসি প্রাক মৌসুম অনুশীলনে যোগ দেবেন না। এমনকি করোনা পরীক্ষাও করবেন না ক্লাবে এসে।

৩০ আগস্ট

লা লিগা জানিয়ে দিল, মেসি ক্লাব ছাড়তে চাইলে ৭০ কোটি ইউরোর বাই আউট ক্লজ দিয়েই যেতে হবে। ওদিকে মেসিও করোনা পরীক্ষা (পিসিআর) দিতে যাননি ক্লাবে।

৩১ আগস্ট

প্রাক মৌসুম অনুশীলন শুরু হয় বার্সেলোনার। কিন্তু মেসি অনুশীলনে যোগ দেননি। তাঁর ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন ভারী হয় আরও।

২ সেপ্টেম্বর

আর্জেন্টিনা থেকে বার্সেলোনায় হাজির হলেন মেসির বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি। ক্লাব ও বার্সেলোনার মধ্যে সমঝোতার পথ খুলল এতে

৩ সেপ্টেম্বর

বার্সেলোনার সঙ্গে আলোচনা হোর্হের। কিন্তু দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকল। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না।

৪ সেপ্টেম্বর

লা লিগা চুক্তির শর্ত বুঝতে ভুল করেছে জানিয়ে বিবৃতি মেসির। চাইলে বিনা ট্রান্সফার ফিতেই যেতে পারেন বলে দাবি করেছেন বার্সেলোনা অধিনায়ক। বাংলাদেশ সময় রাত দশটায় জানালেন বার্সেলোনাতেই থাকবেন মেসি। এবং সেটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে। চাইলে আইনি সহায়তা নিয়ে ক্লাব ছাড়তে পারতেন কিন্তু বর্তমান বোর্ডের সঙ্গে এমন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ভালোবাসার বার্সেলোনার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে রাজি নন বলেই থেকে গেলেন মেসি।