Share |

ব্রিটিশ সরকারের স্বীকৃতি : ‘ভ্যাকসিন লুমিনারি’ বাংলাদেশি ডা. তাসনিম জারা

পত্রিকা প্রতিবেদন
লণ্ডন, ০৭ জুন : করোনা মহামারি ঠেকাতে টিকাদান বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য ‘ভ্যাক্সিন লুমিনারি’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশের মেয়ে তাসনিম জারা। ব্রিটিশ সরকার বিরল এই স্বীকৃতি দিয়েছে। ২ জুন বুধবার জি-৭ গ্লোবাল ভ্যাক্সিন কনফিডেন্স সামিটে এই ঘোষণা দেয়া হয়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি বাংলাদেশের এই শিক্ষার্থী ইংল্যাণ্ডে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতে (এনএইচএস) কাজ করছেন। টিকা নিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও বার্তা প্রচার করে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।
জি-৭ প্রেসিডেন্সিতে ব্রিটিশ সরকার প্রথমবারের মতো এই রকম ইভেন্ট আহ্বান করে। এতে টিকার বিষয়ে আস্থা গড়ে তোলা এবং তা রক্ষায় সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বিশ্বজুড়ে যেসব বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন তাদেরকে একত্রিত করা হয়।
ড. তাসনিম জারা ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে একজন পোস্টগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী। তিনি বলেছেন, যদিও আমাকে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে, তবু আমি বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষদের বেশি সেবা দিয়েছি। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে আমাকে ভ্যাক্সিন লুমিনারি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ফলে এই প্ল্যাটফরমে বিশ্বের অন্য অংশের প্রতিনিধিত্ব করতে
পেরে আমি গর্বিত। ব্রিটিশ সরকার এবং পিপলস পিকচারের অংশগ্রহণে সৃষ্ট একটি ফটো মোজাইক, যার শিরোনাম ‘দ্য লুমিনারিস’ অনুষ্ঠানে অবমুক্ত করা হয়।
ভিডিও এবং ছবি ব্যবহার করে এতে বিশ্বের অন্য ‘ভ্যাক্সিন লুমিনারিস’কে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এসব ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে টিকার পক্ষে আস্থা তৈরিতে কাজ করেছেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি। এতে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আরো মানুষকে আগামী বছর ‘ভ্যাক্সিন লুমিনারিস’ হিসেবে তুলে ধরতে একটি ওয়েবসাইট সচল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে ওই প্ল্যাটফরম থেকে। গ্লোবাল ভ্যাক্সিন কনফিডেন্স সামিট হলো ব্রিটিশ সরকারের একটি বিস্তৃত কাজের অংশ। এর প্রেসিডেন্ট এ বছর ব্রিটেন। তারা করোনা মহামারির ইতি ঘটানোর চেষ্টা করছে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে। একে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ধরা হয়েছে। উল্লেখ্য, করোনার টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকির অন্যতম হলো ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়া। এমন তথ্য টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জনগণের আস্থার ক্ষতি করে। এই সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেডরোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস। তিনি এ প্রচেষ্টায় সমর্থন দিয়ে বলেন- অবশ্যই আস্থা ফেরাতে হবে। বিশ্বজুড়ে টিকাদানে সফলতা আনার জন্য সরকারগুলোকে বিস্তৃত কৌশল অবলম্বন করতে হবে এবং তা প্রতিটি দেশে কাজ রূপান্তরিত করতে হবে। এই সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন ডেনমার্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সেভ দ্য চিলড্রেনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেলে থোরনিং শমিডট। তিনি ফেইসবুকের ওভারসাইট বোর্ডের সহ-সভাপতিও। এতে আরো বক্তব্য রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এলার্জি অ্যাণ্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজেস-এর পরিচালক এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান মেডিকেল উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউচি, আফ্রিকা সিডিসি ফার্স্ট ডিরেক্টর ড. জন নকেঙ্গাসং।