Share |

অনন্য কমিউনিটি সেবার স্বীকৃতি : রানির দেওয়া সম্মাননা পেলেন ওয়াজেদ হাসান সেলিম

লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের অভিনন্দন
পত্রিকা প্রতিবেদন
লণ্ডন, ১৪ জুন : ব্রিটিশ এম্পায়ার মেডেল (বিইএম) খেতাব পেয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ ওয়াজেদ হাসান সেলিম। গত ১২ জুন রানির জন্মদিনে ঘোষিত সম্মাননা তালিকায় এ যুক্ত হয়ে তিনি এ খেতাব অর্জন করেন। করোনা মহামারির সময়ে হাসপাতাল, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত জরুরি সেবাপ্রদানকারীদের পাশাপাশি আশ্রয়হীন অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার প্রদান করে কমিউনিটি সেবায় অনন্য অবদান রাখেন তিনি। তাঁর এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রানির দেয়া এই খেতাব পেলেন তিনি।
কোভিড-১৯ মহামারীতে ‘কী ওয়ার্কার’দের মাঝে ৭,৫০০ খাবার ও ৪,৫০০ পানীয় বিতরণ করেন ওয়াজেদ হাসান সেলিম। তাঁর এই অনন্য উদারতার গল্প তুলে ধরে- আপ্যায়ন যার পেশা এবং নেশা- শীর্ষক একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সাপ্তাহিক পত্রিকা।
উল্লেখ্য, প্রায় সিকি শতাব্দী ধরে লণ্ডনে ক্যাটারিং ব্যবসায় জড়িত প্রাইড অফ এশিয়ার সত্ত্বাধিকারী ওয়াজেদ হাসান সেলিম। পূর্ব লণ্ডনে রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করেছেন প্রায় দুই দশক। প্রাইড অফ এশিয়ার সুনাম বাঙালি কমিউনিটি ছাড়িয়ে বৃহত্তর সমাজেও পৌঁছেছে। এছাড়া গত কয়েক বছর ধরে এসেক্সের চ্যাডওয়েল হীথে মে ফেয়ার ভেন্যু নামে আরেকটি নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন জনাব সেলিম।
করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে তাঁর দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অনুষ্ঠানাদি নেই বলে ক্যাটারিং ব্যবসা নেই কয়েক মাস ধরে। গত বছরের মার্চে লকডাউন ঘোষণার পর থেকে ভেন্যুর ব্যবসাও বন্ধ।
কিন্তু ব্যবসায়িক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বে?ঘরে বসে থাকলেন না জনাব সেলিম। খাবার নিয়েই তাঁর ব্যবসা। মানুষকে আপ্যায়ন করা শুধু তাঁর পেশাতেই আটকে থাকেনি বরং এটি যেনো রীতিমতো নেশায়?পরিণত হয়েছে। ওয়াজেদ সেলিম বলেন, ‘শুধু মানুষের সুসময়েই আপ্যায়ন নয়, বরং দুঃসময়েও তাদের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করি আমরা। যে কোনো সঙ্কটে সাধ্যমতো সহযোগিতা করতে পারলে ভালো লাগে।’
২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে ‘দশ হাজার ইফতার’ উদ্যোগের অংশ হিশেবে প্রাইড অফ এশিয়া এক হাজার গৃহহীনের মাঝে ইফতার বিতরণ করে। করোনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে যখন শুনলেন মানুষ খাবারের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন খাবার নিয়েই এই বিপদের সময়ে?মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। সহকর্মীরাও স্বেচ্ছাশ্রম দিতে রাজী হয়ে?গেলেন। শুরু হলো ‘প্রাইড অফ এশিয়া’ আর ‘মে ফেয়ার’-এর ব্যানারে আমাদের কার্যক্রম।’
গত বছরের এপ্রিল-মে এই দুই মাসে ওয়াজেদ হাসান সেলিম প্রায়?সাড়ে সাত হাজার (৭,৫০০ মিল) খাবার এবং সাড়ে চার হাজার (৪,৫০০) কোমল পানীয় বিতরণ করেছেন। বৃহত্তর লণ্ডনের ১০টি হাসপাতাল, বেশ ক’টি এম্বুলেন্স সার্ভিস, পুলিশ স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে ‘কী ওয়ার্কার’দের জন্য নিয়মিত খাবার সরবরাহের পাশাপাশি ব্রিক্সটনের স্যুপ কিচেন, ফুড ব্যাংক, বেশ কটি কেয়ার হোমেও খাবার এবং কোমল পানীয় বিতরণ করেছে প্রাইড অফ এশিয়া ও মে ফেয়ার ভেন্যু। সীমিত লোকবল দিয়ে?এই ব্যাপক তৎপরতা পরিচালনা সহজ ছিলো না মোটেও। যুক্তরাজ্য সরকারের জারি করা নিরাপত্তামূলক সকল স্বাস্থ্যগত বিধি-নিষেধ মেনেই সব কাজ চালিয়ে গেছেন তারা। এ সময়?এসব জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাঝে খাবার বিতরণ ছাড়াও রেডব্রিজ, নিউহাম ও বার্কিং কাউন্সিলে অবস্থিত প্রায়?শতাধিক মানুষকে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিয়েছে প্রাইড অফ এশিয়া আর মে ফেয়ার ভেন্যু।
রানির স্বীকৃতি পেয়ে ভীষণ আনন্দিত সেলিম বলেন, রাজ প্রাসাদ থেকে বাসায় যখন চিঠি আসে তখন পরিবারের সবাই আনন্দে আপ্লুত হই। চিঠি খুলে জানতে পারি এই স্বীকৃতির কথা। এ অনুভূতি অসাধারণ। তিনি বলেন, স্রষ্টা আমাকে সুস্বাস্থ্য দিয়েছেন, ভাল আয়ের সুযোগ দিয়েছেন। এর কৃতজ্ঞতা স্বীকারের বড় উপায় আশপাশের মানুষদের সাহায্যে কাজ করা।
এদিকে, রানির খেতাব প্রাপ্তিতে প্রাইড অফ এশিয়াখ্যাত ওয়াজেদ হাসান সেলিমকে কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের অভিনন্দন
রাজকীয় সম্মাননা লাভে লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের জীবনসদস্য ওয়াজেদ হাসান সেলিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, সেক্রেটারী মুহাম্মদ জুবায়ের এবং ট্রেজারার আ স ম মাসুম। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, “ওয়াজেদ হাসান সেলিমের এই সম্মাননা লাভ বহু বছর ধরে তার মানবিক কর্মকাণ্ডের অনন্য স্বীকৃতি। তার এই সাফল্যে আমরা আনন্দিত এবং গর্বিত। রানির এই স্বীকৃতি তাকে সমাজের কল্যাণে আরো নিবেদিত হতে উৎসাহিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি এবং তাঁর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সফলতা কামনা করি।  
ওয়াজেদ হাসান সেলিম ২৩ বছর বয়স থেকে ক্যাটারিং ব্যবসার সাথে যুক্ত। স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে ৪৮ বছর বয়সী সেলিমের পরিবার। বসবাস পূর্ব লণ্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকায়। বাংলাদেশে আদি বাড়ি দক্ষিণ সুরমার জালালপুর ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামে।