Share |

কারাবাও কাপ: টাইব্রেকারে ২১ গোল : রোমাঞ্চকর জয়ে চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল

২৮ ফেব্রুয়ারি : ফুটবলে ‘অফসাইড’ প্রথা না থাকলে কারাবাও কাপের শিরোপা শোভা পেতো চেলসির শোকেজে। রোববার ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে হওয়া ফাইনালে টিম ব্লুজের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হত লিভারপুল। কারণ অলরেডদের ১ গোলের পর চেলসির ২ গোল বাতিল হয় লাইন্সম্যানের পতাকার দাপটে। অফসাইড খড়গের সঙ্গে গোলপোস্টের বাধাও যোগ হয় দুদলের দুর্ভাগ্যে। আক্রমণ-পা?া আক্রমণে রোমাঞ্চের রেণু ছড়ানো ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নি?ত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। পেনা?ি শুট আউটেও উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। ২১ গোলের রোমাঞ্চে ইংলিশ লীগ কাপের শিরোপা উঠেছে লিভারপুলের ঘরে।
টাইব্রেকারে দুই দলের ২০ আউটফি? খেলোয়াড়ই বল জালে পাঠান। গোলের দেখা পান লিভারপুল গোলরক্ষক কুইভিন কেলেহারও।
এরপরই সাডেন ডেথে গোলবারের ওপর দিয়ে মেরে অলরেডদের শিরোপা উপহার দেন চেলসি গোলরক্ষক কেপা আরিসাবালাগা। ১১-১০ গোলের জয়ে উল্লাসে মাতেন মোহাম্মদ সালাহ-সাদিও মানেরা।
অথচ টাইব্রেকার সামনে রেখে অতিরিক্ত সময়ের এক মিনিট বাকি থাকতে এডওয়ার্ড মেন্ডিকে তুলে আরিসাবালাগাকে নামান চেলসি কোচ টুমাস টুখেল। নায়ক হতে পারেননি এই স্প্যানিশ; হয়েছেন খলনায়ক।
বল দখল কিংবা আক্রমণ- গোটা ম্যাচে চেলসির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে লিভারপুল। ৫৫ শতাংশ বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষের গোলবারের উদ্দেশ্যে মোট ২০টি শট নেয় অলরেডরা। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৬টি। অপরদিকে ৪৫ শতাংশ বল দখলে রাখা চেলসি ১১টি শটের ৪টি লক্ষ্যে রাখে। ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় চেলসি। সিজার অ্যাজপিলিকুয়েতার পাসে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিকের শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক কেলেহার।
সপ্তদশ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন সাদিও মানে। ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্ন?ের লম্বা করে বাড়ানো বলে ডি-বক্সে ঠিকমতো হেড করতে পারেননি সেনেগালের এই ফরোয়ার্ড।
৩০তম মিনিটে দুর্দান্ত ডাবল সেভে জাল অক্ষত রাখেন চেলসি গোলরক্ষক এডওয়ার্ড মেন্ডি। নাবি কেইতার ২০ গজ দূর থেকে নেয়া শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর কাছ থেকে মানের প্রচেষ্টাও দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন তিনি।
বিরতির আগে সুবর্ণ সুযোগ হারান ম্যাসন মাউন্ট। পুলিসিক ডি-বক্সে বল বাড়ান হ্যাভার্টজকে। তার পাসে ১০ গজ দূর থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বল বাইরে মারেন অরক্ষিত মাউন্ট।
৫০তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় তার। পুলিসিকের লম্বা করে বাড়ানো বলে ১৪ গজ দূর থেকে ইংলিশ মিডফি?ারের শট পোষ্টে লাগে।
৬৭তম মিনিটে লিভারপুল জালে বল পাঠিয়ে উৎসবে মাতলেও গোল মেলেনি। অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্ন?ের ফ্রি-কিকে মানের হেড পাসে দুই গজ দূর থেকে হেডেই ফাঁকা জালে বল পাঠান জোয়েল মাতিপ। কিন্তু ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। বলে স্পর্শ না করলেও ফ্রি-কিকের সময়ে সামান্য ব্যবধানে অফসাইডে ছিলেন ভার্জিল ফন ডাইক।
৭৮তম মিনিটে চেলসির টিমো ভেরনারও হেডে জালে বল পাঠান। কিন্তু এখানেও অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান।
অতিরিক্ত সময়ে ৯৮তম মিনিটেও একই অভিজ্ঞতা সঙ্গী হয় চেলসির। অফসাইডে বাতিল হয় বদলি নামা রোমেলু লুকাকুর গোল। ১১০তম মিনিটে হ্যাভার্টজ জাল খুঁজে নিলেও ফের অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান।
টাইব্রেকারে জেমস মিলনারের গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। চেলসির মার্কো আলোনসোও জবাবে গোল করেন। এরপর একে একে লক্ষ্যভেদ করতে থাকেন লিভারপুলের ফ্যাবিনহো, ফন ডাইক, মোহাম্মদ সালাহরা। চেলসিও মিস করেনি। রোমেলু লুকাকু, জর্জিনহো, থিয়াগো সিলভারা ঠিকঠাকভাবে জালে বল জড়ান। ১০-১০ সমতা থাকে সাডেন ডেথ চলার সময়ও।
লিভারপুলের হয়ে এগার নম্বর শটটি নিতে আসেন গোলরক্ষক কেলেহার। তিনি গোলও করেন। কিন্তু চেলসির হয়ে শট নিতে গিয়ে বদলি গোলরক্ষক কেপা আরিসাবালাগা আর পাননি জালের দেখা। বারের ওপর দিয়ে মেরে বসেন তিনি।
এই জয়ে কারাবাও কাপে সবচেয়ে সর্বোচ্চ ৯ বার শিরোপা জেতার কীর্তি অর্জন করলো লিভারপুল।