Share |

বিলেতে বাঙালির সবজি বাগান

মোহাম্মদ মোবারক হোসেন টিটু
মার্চ মাস চলছে। বিলেতে ধীরে ধীরে শীত চলে যাচ্ছে। এখনই সময় এই মার্চ মাসে বীজ থেকে চারা উৎপাদন করার। যারা এই গ্রীষ্মে পারিবারিক সবজি বাগান করার চিন্তা করছেন; তাদের জন্য এখনই উপযুক্ত সময় বীজ থেকে চারা উৎপাদন করার। যারা সবজি বাগান করতে আগ্রহী ও নিজ দেশের তাজা সবজির স্বাদ পেতে ইচ্ছুক, তাঁদের জন্য এখনই মোক্ষম সময় ফ্ল্যাটে বা বাড়ির আঙিনায় সবজি বাগান করার।
আপনি সুপার মার্কেটের পত্রিকা ও পেপার সেক্শনে গেলে সবজি বাগান ও সবজি উৎপাদনের জন্য করার জন্য ম্যাগাজিন নির্দেশিকার বই পাবেন। তবে এদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের প্রায় সবারই কমবেশি সবজি বাগান করার অভিজ্ঞতা আছে। তাছাড়া নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মা-বাবাদের কাছ থেকে বাগানের প্রতি আগ্রহ পোষণ করছে। কিন্তু এদেশীয় সবজির আবাদ ও বাংলাদেশের সবজির আবাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। তাই আবহাওয়ার নিরিখে বাগান করলে বাংলাদেশী সবজির কাঙিক্ষত ফলন পাওয়া যেতে পারে।
পৃথিবীর সব দেশে আবহাওয়াকে প্রাধান্য দিয়েই ফসলের সময় নির্ধারিত হয়। এই মাসের মধ্যেই বীজ বপন করা যেতে পারে। এখনো শীত আছে বলে প্রথমে বীজ বপন করতে হবে ঘরে, যেখানে তাপমাত্রা মোটামুটি চারা জন্মানোর জন্য উপযোগী পরিবেশ বিরাজ করে।
সাধারণতঃ বাংলাদেশিরা যেসব সবজিতে আগ্রহী তার একটা তালিকা দেয়া যেতে পারে। আমরা মূলত লাউ, বেগুন, সীম, বরবটি, শসা, আলু, কুমড়া, টমেটো, ধনিয়া পাতা, পিয়াজ পাতা, কলমি শাক, পাট শাক, নাগা মরিচ, ধান্না মরিচ, গাজর, ঝিঙ্গা, ধুন্দল, ঢেঁড়স, লাল শাক, ডাটা শাক, করল্লা, মিলন, লাই শাক ও পটল ইত্যাদি বাগানে চাষ করতে আগ্রহী। আপনার পাশের বাংলাদেশি দোকানগুলোতে এই সব সবজির বীজ পাওয়া যেতে পারে।
চারা গজানোর পর এপ্রিল/মে মাসে উপযুক্ত আবহাওয়া দেখে বাইরে রোপন করা যেতে পারে। যাদের গার্ডেন করার মত উপযুক্ত জায়গা নেই, তারা বারান্দায় চারা রোপন করতে পারবেন। তাছাড়াও মাটি উর্বর করার জন্য নিকটস্থ দোকানে বিভিন্ন রকমের কম্পোস্ট পাওয়া যায়। সাধারণতঃ এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশ গ্রোসারি দোকান বা ক্যাশ এণ্ড ক্যারিতে চারা পাবেন। তাছাড়াও যারা ফল বাগানে আগ্রহী; তারা নিকটস্থ স্টোরগুলোতে পাবেন। ঘরে ও বাইরে চারা রোপনের আগে আগাছা নির্মূল করা জরুরি। কেননা আগাছা চারার বর্ধনকে রহিত বা বিলম্বিত করে।
সবসময় খেয়াল রাখতে হবে যে, চারা ও গাছের গোড়ায় আর্দ্রতা অনুযায়ী পানি আছে কিনা? যদি রোদ্রের প্রখরতায় চারা বা গাছের গোড়ায় আর্দ্রতা না থাকে, তাহলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এই জন্যে যারা সকালে কাজে বেরিয়ে পড়েন; তারা সকালে পানি দিয়ে চারা বা গাছের আর্দ্রতা উপযোগী করতে পারেন। তাহলে চারা বা গাছের বর্ধন গতিশীল থাকবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, চারা বা গাছের জন্য বেশি পানি ক্ষতিকর। ওয়াটারিং ক্যান দিয়ে পানি দিলে নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হবে।
সার ও কীটনাশকের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। স্নেইল ও সৗাগ আক্রমণ করতে যেন না পারে, সে জন্য স্নেইল ও সৗাগ নিধনের উপযোগী কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। এগুলো আজকাল পাউণ্ড শপে পাওয়া যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, আকাশে বৃষ্টির ঘনঘটা দেখা দিলে তখনই স্নেইল ও সৗাগ নিধনের কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। কেননা এইগুলো বৃষ্টির সাথে সাথে বেরিয়ে পড়ে এবং চারা বা গাছকে আক্রমণ করে।
তাছাড়া আপনার বাগানে বা ফ্ল্যাটের আঙিনায় সূর্যমুখী ফুলের চারা রোপন করলে মৌমাছি আসবে। আপনার বাগানের ফলন বৃদ্ধি করার জন্য পরাগায়ন করবে এই মৌমাছি।
লিলি জাতীয় ফুল গাছ বাগানে বা আঙিনায় না লাগানো ভালো। কারণ, আপনার পোষা প্রিয় বিড়ালের জন্য লিলি জাতীয় ফুল ক্ষতিকারক। লিলি জাতীয় ফুল খেয়ে আপনার বিড়ালের কিডনির সমস্যা হতে পারে। আপনি জানার আগেই আপনার প্রিয় বিড়াল অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
আমাদের লোকজন আলু শাক খেতে একটু আগ্রহ পোষণ করেন। তবে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আলু শাক মানব শরীরের জন্যে ক্ষতিকারক।
মাটি মানুষের সাথে সম্পর্কিত। আপনার বাড়ির বাগানে বা ফ্ল্যাটের আঙিনায় বাগান করলে আপনার সময় কাটবে ভালো, নিজেই ব্যস্ত থাকবেন ও পাড়া প্রতিবেশীকে তাজা সবজি উপহার দিতে পারবেন।
লণ্ডন, ১০ মার্চ ২০২২
লেখক : কৃষিবিদ।