Share |

বেলমার্শ কারাগারে ২৩ মার্চ অ্যাসাঞ্জের বিয়ে

পত্রিকা ডেস্ক
লণ্ডন, ১৪ মার্চ: যুক্তরাজ্যের বেলমার্শ কারাগারে ২৩ মার্চ বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। বিয়েতে মাত্র চারজন অতিথিকে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরের শুরুতে বন্দী অ্যাসাঞ্জকে কারাগারে বাগদত্তা স্টেলা মরিসকে বিয়ে করার অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
স্টেলা মরিসের বিয়ের পোশাকের ডিজাইন করছেন জনপ্রিয় ব্রিটিশ ডিজাইনার ভিভিয়েন ওয়েস্টউড। অ্যাসাঞ্জের পিতা ও তাঁদের পূর্বপুরুষেরা স্কটল্যাণ্ডের হওয়ায় বিয়েতে অ্যাসাঞ্জ পরবেন সামরিক ধাঁচে তৈরি স্কার্টের মতো স্কটল্যাণ্ডের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের পোশাক। এটিরও ডিজাইনার ভিভিয়েন ওয়েস্টউড।
বিয়ে নিয়ে উচ্ছসিত স্টেলা মরিস। ১৩ মার্চ রোববার অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্টেলা মরিস বলেন, ‘সামগ্রিক পরিস্থিতি বিরূপ হলেও আমরা অবশ্যই বিয়ে নিয়ে খুবই উত্তেজিত।
আমাদের বিয়ের পরিকল্পনায় বেআইনি হচ্চক্ষেপও করা হচ্ছে।’
স্টেলা আরও বলেন, ‘জুলিয়ান বিয়ের জন্য মুখিয়ে আছে, কারণ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানোর অনেক দিন পর অবশেষে আমাদের পরিণয় হচ্ছে। সে বিদেশি একটি শক্তির (যুক্তরাষ্ট্র) ইশারায় এখন বন্দী। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও গঠন করা হয়নি। এটা সম্পূর্ণরূপে একজনের জন্য অসম্মানজনক।’
যুক্তরাজ্যের বিবাহ আইন ১৯৮৩-এর আওতায় বন্দীরা কারাগারে বিয়ের জন্য আবেদনের সুযোগ পান। আবেদন মঞ্জুর হলে সম্পূর্ণ খরচ নিজেদের মিটিয়ে বিয়ে করতে হবে তাঁদের। ২০২১ সালের শেষ দিকে কারাগারে বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে কারা গভর্নরের কাছে আবেদন করেন অ্যাসাঞ্জ। নভেম্বরে তাঁর আবেদন মঞ্জুর হয়।
২০১১ সালে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী দলে যোগ দেন স্টেলা মরিস। অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে সেবারই প্রথম দেখা হয় তাঁর। এরপর প্রায় প্রতিদিন ইকুয়েডর দূতাবাসে গিয়ে অ্যাসাঞ্জের সঙ্গে দেখা করতেন। এভাবে তাঁদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়। ২০১৫ সালে একে অপরের প্রেমে পড়েন। এর দুই বছর পর বাগদান সম্পন্ন হয়। ইকুয়েডর দূতাবাসে থাকাকালেই গর্ভধারণ করেন তিনি। জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ও স্টেলা মরিস যুগলের দুই সন্তান আছে। অবশেষে কারাগারে এই যুগলের বিয়ে হচ্ছে।
মার্কিন গোপন নথি ফাঁস করে হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত গুপ্তচরবৃত্তির আইনে করা মামলার আসামি। ২০১২ সাল থেকে লণ্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে জামিনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাজ্য পুলিশ। তখন থেকে বেলমার্শ কারাগারে বন্দী তিনি।