Share |

বাদশাহনামা-৪

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমি ঢাকায় ফিরতে পারিনি। আমার স্ত্রী তখন সন্তানসম্ভবা। বালিগঞ্জ হাসপাতালে রয়েছে। ডাক্তাররা বললেন, সন্তান হওয়ার পরেও আপনাকে কিছুদিন কলকাতায় থাকতে হবে। তা না হলে সন্তান এবং তার মা উভয়ের জন্য অসুবিধা রয়েছে। আমার সঙ্গে যারা ছিল তারা দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই ঢাকায় চলে যায়। বাদশাহও সম্ভবত চলে গিয়েছিল। ওই সময় কলকাতার গড়িয়াহাটের কাপড়ের দোকানে শাড়ি প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের নেতারা দেশে যাওয়ার আগে কলকাতায় প্রচুর বাজার করেছিলেন। আমি আমার স্ত্রীর অসুস্থতার জন্য দেশে ফিরতে পারিনি। ১৯৭২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কলকাতায় ছিলাম। ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু কলকাতায় আসেন। তাঁকে দেখার জন্য সারা কলকাতা তাঁর জনসভায় গিয়ে ভিড় করেছিল। এবার বাদশাহও এসেছিল তাঁর সঙ্গে। বাংলাদেশ দূতাবাসে তার সঙ্গে দেখা। দেখলাম বাদশাহ খুবই ক্ষমতাশালী। তার হাঁকডাক সর্বত্র। বঙ্গবন্ধুকে রাজভবনে (গভর্ণর হাউস) সম্বর্ধনা দানের পরে কলকাতার সকল সংস্কৃতিসেবী সেখানে হাজির।
তাঁদের মধ্যে একজন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ওই সম্বর্ধনা সভায় রবীন্দ্রসংগীত গান। বাদশাহ বিখ্যাত সংগীত শিল্পী হেমন্ত মুখার্জীকে নিয়ে রাজভবনে এসেছিল। তখন সিদ্ধান্ত শঙ্কর রায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। রাজভবনে তাঁর সাথে দেখলাম বাদশাহকে। মানু দা বলে তাঁর চারপাশে ঘোরাফেরা করছে। সিদ্ধান্ত শঙ্কর রায়ের ডাক নাম ছিল মানু। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেই বাদশাহ ঢাকায় ফিরে যায়।
২৪ ফেব্রুয়ারি আমি কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরি। তখন ঢাকায় বাদশাহর চরম দাপট। বাদশাহ ৩২ নম্বরে রোজই যাতায়াত করে। সেখানে শেখ রাসেলকে নিয়ে খেলাধুলা করে। বঙ্গবন্ধুর নানা ফরমায়েশ খাটে। ঢাকায় কানাঘুষা শুনলাম, বঙ্গবন্ধু বাদশাহকে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য লণ্ডনে পাঠাচ্ছেন। ১৯৭৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু আলজিয়ার্সে রওয়ানা হোন। আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। আলজিয়ার্সগামী বিমানে উঠে বাদশাহর দেখা পেলাম। তখন সে অত্যন্ত সুন্দর চেহারার অধিকারী ছিল। কিছুক্ষণ পাশে বসে গল্প করল। আলজিয়ার্সে সে আমাদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ছিল। তারপর সে লণ্ডনে চলে যায়। আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেশে ফিরে যাই। দেশে ফিরে আমার স্ত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে নিয়ে কলকাতায় ছিলাম দশ মাস। আমার স্ত্রী সুস্থ না হওয়ায় ডাক্তারের উপদেশে লণ্ডনে রওয়ানা হলাম। এটা ১৯৭৪ সালের ৫ অক্টোবর।
লণ্ডনে হিথ্রো এয়ারপোর্টে নামার পর আমার স্ত্রীকে সরাসরি একটি ছোট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় সেন্ট থমাস হাসপাতালে। আমি উঠলাম লণ্ডনের নীজডেনে এক অ্যাকাউন্টেন্টের বাসায়। এই সময়টা আমার জীবনের খুবই দুর্ভোগের। রোজ আমার মেয়ে তনিমাকে নিয়ে হাসপাতালে আসতাম। সন্ধ্যা হলে ফিরে যেতাম। এই ছিল আমার কাজ। এ সময় বন্ধু আবদুল আউয়ালের সঙ্গে দেখা। আবদুল আউয়াল তখন জনতা ব্যাংকের লণ্ডন শাখায় কাজ করে। ওই ব্যাংকে বঙ্গবন্ধুর খুনী নুরও চাকরি করত। আরো ছিল ‘মূলধারা একাত্তর’ বইয়ের লেখক মঈদুল হাসান। এ সময় বাদশাহ সাপ্তাহিক প্রবাসীর সম্পাদক, বাংলাদেশ অবজারভারের লণ্ডনস্থ প্রতিনিধি এবং জনতা ব্যাংক অথবা সোনালী ব্যাংকের গণসংযোগ অফিসার।
বাংলাদেশ দূতাবাস তখন কুইন্সগেটের অভিজাত ভবনে উঠে এসেছে। সেখানে আমার বন্ধুবান্ধবেরা অনেকেই চাকরি করেন, যেমন ফারুক আহমদ চৌধুরী, মহিউদ্দিন চৌধুরী। পরে ঢাকা থেকে এমআর আখতার মুকুল এসে প্রেস মিনিস্টার পদে যোগ দেন। তখন ‘যায়যায়দিন’ পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমান, তার স্ত্রী তালেয়া রেহমান লণ্ডনে। বাদশাহের সঙ্গে তখন ঘনঘন দেখা হতো। সে বাংলাদেশ দূতাবাসে এই আড্ডায় প্রায়ই আসত।
১৫ আগস্ট তারিখে বঙ্গবন্ধুর হত্যার মর্মান্তিক খবর পেলাম। তখন বাদশাহ লণ্ডনে নেই। ঢাকায় ছিল সেকথা আগেই লিখেছি। সে ফিরে আসল। আমরা সবাই উৎসুক তার মুখে এই হত্যাকাণ্ড কীভাবে হলো তা জানব। কারণ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সময় বাদশাহ পাশের বাড়িতেই ছিল। বলল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে আর্মির কিছু লোক তাকেও বেঁধে ফেলেছিল। কিন্তু ঘাতক সেনা অফিসারদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে চিনত এবং তার বন্ধু ছিল। তারা তাকে টিকিট কেটে লণ্ডনে পাঠিয়ে দিয়েছে। এর বেশি সে আর কিছু বলতে পারে না।
বাদশাহ লণ্ডনে ফিরে আসার পর গুলনাহার খানের প্রেমে পড়ে এবং তাকে বিয়ে করে। সে কাহিনি আগেই লিখেছি। এই প্রেমের বিয়ে লণ্ডনের বাঙালি মহলে গুঞ্জন তুলেছিল। বাদশাহ ও নাহার খানের একটি পুত্র হয়। সে এখন যুবক। বাদশাহের মতোই সুন্দর চেহারা। এখনও গুলনাহার খান কুইন্সবারির লেনের সেই বাসাতেই বাস করে। বাদশাহের সঙ্গে তার প্রণয় বেশিদিন টেকেনি। কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। মাঝে মাঝে তাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে হতো। সেকথা আগেই লিখেছি। ক্রমশ তা গুরুতর আকার ধারণ করে। ওই সময় লণ্ডনে এক বাঙালি ব্রিগেডিয়ার আমাকে দাওয়াত করেছিল। আমি তখন ‘নতুন দিন’ পত্রিকায় কাজ করি এবং উইকাম হাউসে (শাপলা হাউস) নতুন দিনের অফিসে বসি। গুলনাহার টেলিফোনে আমাকে জানাল, সে তার গাড়ি নিয়ে আসবে এবং আমাকে তার গাড়িতে করে ওই ব্রিগেডিয়ারের বাড়িতে নিয়ে যাবে। সন্ধ্যার সময় গুলনাহার নতুন দিনের অফিসে এলো। দেখি তার সঙ্গে বাদশাহ। আমি তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখে খুশী হলাম। যাক, তাহলে তাদের দাম্পত্য ঝগড়া মিটে গেছে। গাড়িতে নাহার ড্রাইভিং সিটে বসল। বাদশাহ তার পাশে। আমি পেছনের সিটে। সেদিন ছিল প্রচণ্ড বৃষ্টি। আমরা হোয়াইটচ্যাপেল না পেরোতেই প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো। বাইরে ঝড় এবং গাড়ির ভেতরেও ঝড়। হঠাৎ করেই বাদশাহ এবং নাহারের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়ে গেল। ঝগড়া এমনই প্রবল আকার ধারণ করল যে, পরস্পরকে সম্বোধনের ক্ষেত্রেও শিষ্টাচারটা পর্যন্ত রইলো না। তাদের ঝগড়া যখন থামছিল না, তখন আমি গাড়ির ভেতরে বিপন্ন বোধ করছিলাম। কারণ ঝগড়া করতে গিয়ে নাহার ভালোভাবে গাড়ি চালাতে পারছিল না। এক সময় আমি বললাম, তোমাদের ঝগড়া যদি না থামাও, আমি গাড়ি থেকে নেমে যাব। কারণ নাহার যেভাবে গাড়ি চালাচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় অ্যাক্সিডেন্ট হতে পারে। বহুবার ধমকের পর তাদের ঝগড়া শেষ হলো। আমরা বাঙালি ব্রিগেডিয়ারের বাসায় গিয়ে পৌঁছলাম। এরকম ঘটনা প্রায়শই ঘটতে দেখেছি।
গুলনাহার খানকে মনে হতো বাদশাহকে ভালোবাসে। কিন্তু বাদশাহ নাহারকে ভালোবাসে কিনা তা কখনো বুঝতে পারিনি। তার প্রমাণ পেয়েছিলাম কিছুকাল পরে। আমি যখন ‘নতুন দিনের’ অফিসে নয়, একটি কমিউনিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর হয়ে ব্রাডি সেন্টারে বসি, তখন বাদশাহ পাশেই মন্টিফিউরি সেন্টারে চাকরি করত। সেখানে চাকরি করত একটি গুজরাটি মেয়ে। খুবই শিক্ষিতা এবং রূপসী। তখন হোয়াইটচ্যাপেলে একটি বিখ্যাত ইণ্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট ছিল। নাম সীতা। ওই সীতা রেস্টুরেন্টে আমি গুজরাটি মেয়েটিকে আমন্ত্রণ করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল মন্টিফিউরি সেন্টারে বাঙালি কমিউনিটির উন্নতির জন্য যেসব কমিউনিটি সেন্টার কাজ করছে তার ফলাফল কী সে সম্বন্ধে তদন্ত করা। ইচ্ছে ছিল তা নিয়ে একটি কলাম লিখব। তখন আমি প্রয়াত ডা. মোরশেদ তালুকদারের ‘জাগরণে’ও পার্টটাইম চাকরি করি। সেই জাগরণে এই সাক্ষাৎকারের রিপোর্টটি প্রকাশ করি। এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ার পরে বাদশাহ একদিন রেগেমেগে ব্রাডি সেন্টারে আমার অফিসে এলো। বলল, ছি! গাফফার ভাই, আপনিও এই বাজে মেয়েটার পাল্লায় পড়েছেন। বাদশাহর রাগ দেখে অবাক হলাম। পরে তার বন্ধুবান্ধবের কাছে শুনলাম, বাদশাহ ওই গুজরাটি তরুণীর প্রেমে পড়েছিল এবং প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। গুজরাটি তরুণীর চরিত্র সম্পর্কেও নানা কথা শুনলাম। আমার বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয়নি। কারণ সে ছিল উচ্চশিক্ষিতা। পরে সাউথ আফ্রিকায় এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়ে সেখানে চলে যায়।
বাদশাহ তারপর আরো কয়েকটি প্রেমে জড়িত হয়েছে। প্রত্যেকটাই ছিল কয়েকদিনের। বাদশাহর চেহারায় তখন বয়সের ছাপও পড়েছে। সে পকেটে তার বাংলাদেশ থেকে আনা পাসপোর্টটি রাখত। সেই পাসপোর্টে তার চব্বিশ বছরের যে ছবি সাঁটানো ছিল তা বন্ধুবান্ধবদের দেখাত। বলত, ‘দেখ, আমি কী সুন্দর ছিলাম!’ মন্টিফিউরি সেন্টারে বাদশাহ যে নিয়মিত আসত তা-ও নয়। কখনো কখনো সে বিনা নোটিশে অফিসে গরহাজির থাকত। এজন্য তার চাকরিতে খুব উন্নতি হয়নি।
নাহারের সঙ্গে বাদশাহর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এবং আদালতে মামলা করে বাদশাহ তাদের বাসভবনের অর্ধেকের মালিকানা পায়। সেটা সে নাহারের কাছেই বিক্রি করে দেয়। এখানে বাদশাহ-নাহার উপাখ্যানের ইতি। তাদের ছোট ছেলে সুদর্শন আরিফ মায়ের কাছেই থেকে যায়। বাপের স্নেহ সে খুব একটা পায়নি। এখন সে অনেক বড় বয়সের যুবক। দেখতে বাদশাহর চেয়েও কান্তিমান।
বাদশাহ যখন মন্টিফিউরি সেন্টারে চাকরি করে তখন আশির দশকের নতুন বাঙালি যুবকেরা যেমন রাজন উদ্দিন জালাল, রুহুল আমিন, সোনাহর আলী এবং আরো অনেকে তার বন্ধু ছিল। রুহুল আমিন এসময় লণ্ডনে বসে বাংলা ছবি করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। বাদশাহ তার এক ছবিতে নায়ক হয়। ছবিটি তেমন প্রচার লাভ করেনি। এসময় কানাঘুষা শুনতাম, বাদশাহ আলমা নামে এক সিলেটী তরুণীর প্রেমে পড়েছে। এই আলমা বেশ লম্বা-চওড়া সুন্দরী তরুণী ছিল। তার এক বিয়ে হয়েছিল। বাদশাহের মতোই এক ছেলে নিয়ে স্বামীকে ত্যাগ করেছে। কমিউনিটি রাজনীতি সম্পর্কে সে ছিল বিশেষ পারদর্শী। আরো কয়েকজন নারী মিলে তারা হোয়াইটচ্যাপেলে প্রতিষ্ঠা করেছিল ‘জাগো নারী’ সেন্টার। নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করাই ছিল এই ‘জাগো নারী’ সেন্টারের কাজ।
বাদশাহকে দেখা গেল এই আলমার সঙ্গে প্রায়ই ঘোরাঘুরি করতে। আমি বাদশাহকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করতাম, ‘তুমি কী আলমাকে বিয়ে করবে’ বাদশাহ রেগেমেগে বলত, ‘না, না। আপনি কী করে ভাবেন আমি ওই মেয়েকে বিয়ে করব আমরা একসাথে কাজ করি। তাই একসঙ্গে একটু ঘোরাফেরাও করি’। আমি বাদশাহকে বিশ্বাস করেছিলাম। আলমাকে বিয়ে করার প্রায় ছয় বছর সে আমার কাছে এই বিয়ের কথা স্বীকার করেনি। তারপর আলমার গর্ভে বাদশাহর একটি মেয়ে হলো। তখন তো আর কথা চাপা রাখা যায় না। তখন সে স্বীকার করল, আলমা তার বিবাহিত স্ত্রী। আলমার সঙ্গেও আমার পরিচয় হলো। আলমার কাছে শুনলাম, তাকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েও স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়নি। সন্তান হওয়ার পর দিচ্ছে। বাদশাহ এধরনের মজার কাজ করত যা আমাদের হাস্যরসের খোরাক জোগাতো।
শেষ জীবনে বাদশাহর চাকরি ছিল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের অধীনে অনাথ আশ্রমের শিশুদের দেখাশোনা। প্রায়ই তাকে এই বিপন্ন শিশুদের জন্য আশ্রয়দাতা পিতামাতা (ফস্টার প্যারেন্ট) খোঁজ করে তাদের কাছে ওই শিশুকে পালিত সন্তান হিসেবে গছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হতো। এবং পরে এদের তদারকি করা ছিল তার প্রধান কাজ। এই কাজও যে সে যতœসহকারে করত তা নয়। কিন্তু তার বস ছিলেন অত্যন্ত উদার স্বভাবের লোক। তার নামটা আমি এখন ভুলে গেছি। তিনি আমাকেও যথেষ্ট স্নেহ করতেন এবং নানাভাবে নানা সময়ে সাহায্য করেছেন। তার অফিস ছিল হোয়াইটচ্যাপেলে। বাদশাহর চাকরি ছিল এসব শিশুর দেখাশোনার জন্য ঘুরে বেড়ানো। সুতরাং অফিসে তাকে বসতে হতো না। বাদশাহ তার শিশুকন্যাটিকে অত্যন্ত ভালোবাসত। ওই মেয়েটির জন্যই আলমার সঙ্গে তার বিবাহ সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকেছিল। নইলে এই বিয়েও টিকত কীনা সন্দেহ। কারণ, তাদের মধ্যেও ঝগড়া-ঝাটি শুরু হয়ে গিয়েছিল।

লণ্ডন, ৯ই মার্চ ২০২২
(চলবে)