Share |

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে লণ্ডন স্পোর্টিফের আয়োজন : পঞ্চাশোর্ধদের নিয়ে জমজমাট ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা

পত্রিকা রিপোর্ট
লণ্ডন, ২৮ মার্চ: দেশে দেশে সরকারী-বেসরকারী নানা আয়োজনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে। তবে গতানুগতির চিন্তার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ এক ব্যতিক্রমী উদযাপন উপহার দিয়েছে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের তরুণ প্রজন্মের গড়া ক্রীড়া সংগঠন লণ্ডন স্পোর্টিফ। সংগঠনটি কমিউনিটির পশ্চাশোর্ধ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আয়োজন করে এক ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট। গত ২৩ মার্চ বুধবার পূর্ব লণ্ডনের কমার্শিয়াল রোডের লণ্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির ক্রীড়া হলে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
বয়সের সুবর্ণজয়ন্তী পাড়ি দেয়া কমিউনিটি ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে ‘প্রদর্শনী ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা’ শীর্ষক এ আয়োজনটি ছিলো আনন্দ, উচ্ছাস আর উদ্দীপনায় ভরপুর।
বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এ ক্রীড়া আয়োজনের মূল বার্তা ছিলো- বয়স কোনো ব্যাপার নয়। সুস্থ্য থাকাটাই আসল কথা। আর সুস্থ্য থাকতে হলে ক্রীড়া বা নিয়মিত শরীর চর্চার কোনো বিকল্প নেই। এই আয়োজন থেকে আরও একটি বার্তা দিয়েছেন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। সেটি হলো- আমরা বাংলাদেশিরা যে যেখানে থাকিনা কেন, মাতৃভূমি এবং শেকড়ের প্রতি আমাদের ভালোবাসা অটুট রাখতে হবে।
২৩ মার্চ বিকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই বিনোদনমূলক আয়োজনে ১০টি জুটিতে মোট ২০ জন খেলোয়াড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয় হলটি।
উদ্বোধনী আয়োজনে সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বড় একটি কেক কেটে প্রতিযোগিতার সূচনা করা হয়। এতে প্রতিযোগিতার উদ্যোক্তা ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক ডাইরেক্টর জাকির খানের সঞ্চালনায় সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রতিযোগিতার আয়োজক লণ্ডন স্পোর্টিফের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম খলিল। তিনি বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সাক্ষী হওয়া জীবনের এক বিরল সুযোগ। কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করে এই বিরল সুযোগটি কাজে লাগানো লণ্ডন স্পোর্টিফের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। ক্লাবের অগ্রযাত্রার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, লণ্ডন স্পোর্টিফ বাংলাদেশিদের একমাত্র ক্লাব যেটি ইংল্যাণ্ডের ফুটবল সংস্থা এফএ, ক্রিকেট বোর্ড ইসিবি এবং ব্যাডমিন্টন ইংল্যাণ্ডের অ্যাফিলিয়েটেড। শুধু বাঙালি নয়, ১৫টি দেশের তরুণরা এই ক্লাবের খোলোয়াড়। তিনি জানান, তরুণদের প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী ক্রীড়ামোদিদের সক্রিয় রাখতে প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এই ক্লাব।
দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য ছিলো পার?রিক সৌহার্দ বাড়ানো এবং আনন্দঘন সময় কাটানো। তবে প্রশিক্ষণহীন পঞ্চাশোর্ধ প্রতিযোগিরা ঠিকই নিজের সেরাটা দিয়ে আয়োজনটিকে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেন। শেষ পর্যন্ত চমৎকার খেলে গ্রুপ এ তে চ্যাম্পিয়ান ট্রফি জিতে নেন এনটিভি ইউরোপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোস্তফা সারওয়ার বাবু ও ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান জুটি। বি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র মতিন উজ-জামান ও ব্রেন্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র কাউন্সিলর পারভেজ আহমেদ জুটি।
এ গ্রুপে রানার্স আপ হয়েছে কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মসুদ বক্থ নাজমুল ও শিক্ষাবিদ ড. রোয়াব উদ্দিন জুটি। বি গ্রুপে রানার্স আপ হয়েছে গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা আসহাব বেগ ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল শুকুর জুটি।
অন্যান্য প্রতিযোগিরা ছিলেন লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী, ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের কমিউনিটি এফেয়ার্স ডাইরেক্টর জাকির খান, বিয়ানী বাজার ক্যান্সার হাসপাতালের সিইও সাহাব উদ্দিন, বিসিএ‘র  সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জামাল উদ্দিন মকদ্দুস, বিসিএ সেক্রেটারি মিঠু চৌধুরী, ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের প্রবর্তক ব্যারিস্টার লুৎফুর রহমান, বিসিএ’র লণ্ডন রিজিয়ন প্রেসিডেন্ট ওলি খান এমবিই, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিসবাহ জামাল, শেফ অনলাইন ও আরটা এওয়ার্ডের প্রবর্তক সালিক মুনিম, সাবেক কাউন্সিলর আতাউর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহীন কাবেরি ও শামীম আহমেদ।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পীকার আহবাব হোসেন সকল প্রতিযোগির গলায় মেডেল পরিয়ে দেন। বিজয়ী ও রানার্স আপ দলকে দেয়া হয় ট্রফি।
পুরষ্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক ডাইরেক্টর জাকির খান অংশগ্রহণকারী সকলকে অভিনন্দন জানান। অংশগ্রহণকারী সকলে নিজেদের উচ্ছাস প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। তারা এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।   
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মুস্তাক আলী বাবুল, লণ্ডন স্পোর্টিফের সেক্রেটারি মুহিবুল আলম, ট্রেজারার মুহাম্মদ আতিকুর রহমান ও বোর্ড অব ডাইরেক্টর মুহি মিকদাদ।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন লণ্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির প্রিন্সিপাল আশিদ আলী।