Share |

রমজানে বাজার-ব্যবস্থায় অস্থিরতা : দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি নিয়ে সরকার এবং ব্যবসায়ীদের আশ্বাস তাহলে...

রমজান মাসে পণ্যসামগ্রীর মজুত, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য যাতে না-বাড়ে সে বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এরপরও অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে সুযোগ না-নিতে পারেন, সে জন্য বাজার তদারকি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)। সভায় নিত্যপণ্যের উৎপাদক, সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা অধিকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এখন অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। সরকার সয়াবিন আমদানিতে শুল্ক কমানোর ফলে এটার দামও এখন আর বাড়ার আশঙ্কা নেই। এ ছাড়া চাল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, ছোলা, চিনি ও খেজুরের মতো মাহে রমজানে অধিক ব্যবহৃত পণ্যগুলোর দামও আর বাড়বে না। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে সুযোগ না-নিতে পারে, এ জন্য নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদারের পরামর্শ দেন তাঁরা।
কিন্তু এ আহবান বা পরামর্শ কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখে সেটি দেখার বিষয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘রমজানের শিক্ষা সমাজের সকল স্তরে ছড়িয়ে পড়ুক।’ এদিকে সরকার বলছে, ‘রমজানে কম দামে দুধ-ডিম-মাংস বিক্রি করবে সরকার’। আর ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলছেন, ‘মজুদ পর্যাপ্ত, নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না’।  
সরকার কোন কোন নিত্যপণ্যের ভ্যাট ও আমদানী শুল্ক কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার পদক্ষেপ ইতোপূর্বেই নিয়েছে। এতে বাজার ব্যবস্থায় স্থিতি ধরে রাখার সুফল ভোগ করা শুরু করলেও সহসা ভোজ্য তেলের সরবরাহ কমে গেছে। গণমাধ্যমের খবরে দেখা গেছে ভোজ্য তেলের দাম কমলেও উপযুক্ত সরবরাহ নেই, বরং সরবরাহ কমে গেছে। দৈনিক সমকাল-এর এক তথ্য বিবরণীতে দেখা যায়, রমজানের আগে ফেব্রুয়ারিতে গরুর  মাংসের দাম ছিল সাড়ে ছশ টাকা, ৩১ মার্চে সাত শ টাকা, ২৪ মার্চ বেগুন ছিল ৬০ টাকা, ৩১ মার্চ ৭০ টাকা। মসুর ডাল ২১ মার্চ ছিল ৭০ টাকা, ২২ মার্চ ১২০ টাকা।
রমজান মাসে বেশি ব্যবহার উপযোগী দ্রব্য বা পণ্যের মূল্য সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার পথে হাঁটছে মূল্যগতি। বিরোধী দল বলছে সরকার ফাঁকিবাজি করছে। সরকার বলছে- দেশ উন্নত হয়েছে, মানুষের আয় বেড়েছে, তাই দাম বাড়ছে। কিন্তু  দেখা গেছে করোনায় বহু মানুষের চাকরি গেছে, অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। বিপাকে জনমানুষ। সে স্থলে মানুষের আয় বেড়েছে কথাটির মাঝে ফাঁকিবাজি দৃশ্যমান।
রমজানে বাজার দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি দেখে এটা স্পষ্ট যে, সরকার ও ব্যবসায়ীদের কথার সাথে মিল নেই। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে- দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি নিয়ে সরকার এবং ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের সাথে বাজারের পরিস্থিতি মিলছে না কেনো?
সবকিছুর পর জনগণ সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চায়। কিন্তু সরকার যদি মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের মিথ্যা আশ্বাসে নিশ্চিন্ত হয়ে যায় তাহলে প্রতারকদের রুখবে কে?
আমাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশের মানুষ রমজানে মাসে অন্তত যেনো খাবার কষ্টে না ভোগে। এ পবিত্র মাসে জীবনযাপন হউক মহান সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত পথে ত্যাগ ও মহিমার। শুভ বোধের উদয় হউক সর্বমহলের।
সৎ উপার্জন ও সততার মূল্যবোধ সঞ্চারিত হউক মানুষের প্রাণে, মনে প্রতিটি পদক্ষেপে। কল্যাণ ও মানবতার জয় হউক- পবিত্র রমজানে এটুকুই প্রত্যাশা।