Share |

শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ : বিলেতে বাংলা ভাষা সুরক্ষায় সোচ্চার হতে হবে

বাঙালির জীবনে নতুন বার্তা নিয়ে বাংলা নতুন বছরের আগমন। বাঙালি যেখানেই থাকুক না কেন- এদিন নতুনের আহ্বানে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। অতীতের না-পাওয়ার বেদনা ও গ্লানি মুছে আশার আলোয় জ্বলে স্বাগত জানায় বাঙালি নতুন বছরকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির, বাংলাদেশের সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবের নাম। ধর্ম ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে বসবাসরত ষোল কোটি মানুষের প্রাণের উৎসব হিসেবেই শুধু পহেলা বৈশাখ এখন আর সীমাবদ্ধ নয়। নানা দেশে ছড়িয়ে?থাকা বাঙালিদের জীবনে বৈশাখ বরণ এখন বছরের এক গুরুত্বপূর্ণ উদযাপন।
নতুনকে বরণের জন্য মানবজাতির আগ্রহ-অনুভূতি চিরকালিন। জাতিতে জাতিতে আলাদাভাবে দিন-বর্ষ, ভৌগলিক ও জলবায়ূ এবং উৎপাদনকেন্দ্রিক বর্ষপঞ্জি থাকলেও এ নিয়ে মানুষের অনুভূতিতে তেমন পার্থক্য নেই। সাধারণত বাংলা সন বা সাল ফসলি সন হিসেবে পরিচিত। মোগল সম্রাটদের পৃষ্ঠপোষকতায় সৌর সনের সাথে মিলিয়ে বা সাযুজ্য রক্ষা করে বাংলা সন গণনার রীতি চালু করা হয়। একটি লাগাতার সংস্কার প্রচেষ্টার ফলে লিপিয়ারসহ বাংলা সন এখন সুনির্ধারিত।
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাঙালির কারণে এখন এই সাংস্কৃতিক উৎসব বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিস্তৃত পৃথিবীর নানা দেশে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর নানা দেশে বাঙালিরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সেমিনার ও মেলার আয়োজন করে আবহমান বাংলাকে বিদেশের মাটিতেও ছড়িয়ে দেন, ভাগাভাগি করেন বাংলা নববর্ষের আনন্দ। ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে বাঙালিরা ১৪ এপ্রিল দিনব্যাপী শিশুদের জন্য নানা প্রতিযোগিতার আয়োজনের পাশাপাশি আবহমান বাংলাকে নবপ্রজন্মের কাছে তুলে ধরার প্রয়াস নেন। নানা সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ব্রিটেনে বহুদিন থেকে বৈশাখি মেলার উৎসব বাঙালিদের অন্যতম বড় আয়োজন। স্থানীয় কাউন্সিলের সহযোগিতায় লন্ডনে আয়োজিত মেলাটি বৈশাখি মেলা হিশেবেই পরিচিত। বাঙালি-অবাঙালি সকলের অংশগ্রহণে এ মেলা প্রাঙ্গণ উৎসবে রূপ নেয়।
আমরা কামনা করি, বাংলা নতুন বছর ১৪২৯ বঙ্গাব্দের এই আনন্দঘন মুহূর্তগুলো বছরভর বিশ্বব্যাপী বাঙালিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক। সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধিতে ঋদ্ধ হোক বাংলাদেশ। হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির আলোকমালায় উজ্জ্বল হোক হাক অনাগত দিনগুলো। নতুন বছরে বিশ্ব বাঙালির হৃদয়ে নতুন আশা সঞ্চারিত হোক, দূর হোক মনের জীর্ণতা।
উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি এবারের বাংলা নতুন বছরের শুরুতে আমাদের বিশেষ করে বাংলাদেশের বাইরে থাকা বাঙালিদের একটা বিশেষ অঙ্গীকার হোক- আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে শেকড়-বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করবো। আর এজন্য শুধু পান্তা-ইলিশ উৎসবই যথেষ্ট নয়- বাংলা সংস্কৃতির বাহন আমাদের ভাষাটাকে জীবিত রাখতে হবে। ব্রিটেনের শিক্ষা ব্যবস্থায় কোন রকমে এতোদিন বাংলার অস্তিত্ব থাকলেও তা এখন হুমকির সম্মুখীন। দু:থজনক হচ্ছে, এ বছরের একুশ ফেব্রুয়ারিতেই ব্রিটেনের সবচেয়ে?বেশি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই এলাকার শিশুদের জন্য গত প্রায় চার দশক ধরে প্রতিষ্ঠিত বাংলা শিক্ষার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। আরও দূর্ভাগ্যজনক হলো- এই অপকর্মে বেশ কিছু বাঙালি সক্রিয়?সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয়?কর্তৃপক্ষের এই জনবিরোধী সিদ্ধান্তের সৃষ্ট ক্ষোভ এখনো মানুষের মনে রয়ে গেছে। ভবনের ভেতরে এতোদিন ধরে চলে আসা বাংলা শিক্ষার ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে?বাইরের দেওয়ালে লাল-সবুজ বাতি জ্বালিয়ে?এর সমাধান হবে না। এটি হবে এক ধরণের তামাশা মাত্র। ব্রিটেনের সকল বাঙালির প্রতি বিশেষ এই দিনে আমাদের আহ্বান- আমরা সবাই যেনো নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাংলা ভাষা রক্ষার জন্য সোচ্চার হই। সবার জন্য বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।