Share |

হাওরে দেবে যাচ্ছে ফসল রক্ষার বাঁধ, কাটা হচ্ছে ধান

সিলেট, ১১ এপ্রিল : সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধগুলোর বেশির ভাগই ১০ দিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত। এতে জায়গায় জায়গায় বাঁধ দেবে যাচ্ছে। শুধু নতুন বাঁধ নয়, গেলবারের পুরনো বাঁধগুলোও দেবে যাচ্ছে। তাহিরপুর উপজেলার শনির ও মাটিয়ান হাওরে ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা।
এদিকে তাহিরপুরের উত্তর বড়দল ইউনিয়নের গোলাঘাট ও লেদারবন্দ হাওরে পানি ঢুকে চার হাজার ৫০০ একর জমির ধান তলিয়ে গেছে।  রোববার বিকেল ৪টায় নালেরবন্দ বাঁধ ও কাউকান্দি গ্রামের পাশের বাঁধটি ভেঙে গোলাঘাট হাওরে পানি ঢোকে। আর ভোরে লেদারবন্দ হাওরের দক্ষিণ পাশের বাঁধটি ভেঙে লেদারবন্দ হাওরে পানি ঢোকে। তবে হাওর দুটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো প্রকল্প ছিল না।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং অন্য বৈশ্বিক সংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস পর্যালোচনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ১০ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত হালকা থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের বরাক অববাহিকা ও মেঘালয়ের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতও হবে। ফলে সুনামগঞ্জের সুরমা, যাদুকাটা, বৌলাই, কংস, সোমেশ্বরীতে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এই পূর্বাভাস সত্যি হলে এবং নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে কোনো হাওরের ফসল টেকানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ দিন ধরে প্রতিটি নদ-নদী পানিতে টইটম্বুর। মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীতে পানি ধীরে ধীরে কমছে। ফলে সব হাওরের বাঁধের বেশির ভাগ অংশই পানিতে ডুবে আছে।