Share |

বাংলাদেশী টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকের উদ্যোগে ৫১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস‘ হিসেবে আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতির দাবী
লণ্ডন, ১৭ এপ্রিল: ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিশেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দানের দাবী জানিয়েছে বাংলাদেশী টিচার্স এসোসিয়েশন ইউকে (বিটিএ)।গত ২৫ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘ভার্চুয়্যাল’ মাধ্যমে বাংলাদেশের ৫১তম স্বাধীনতা দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত সংগঠনের সভায় এ দাবী জানানো হয়।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতিদানকারী লক্ষ লক্ষ শহীদ, প্রায় তিন লক্ষ নির্যাতিতা মা-বোন ও কোটি আত্মত্যাগকারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আবু হোসেন। সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল বাসিত চৌধুরীর সঞ্চালনায় স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিচারণ করেন বিটিএর সদস্য জামাল উদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হোসেইন, মিসবাহ কামাল আহমেদ, এ কে এম এহিয়া, আফিফা রহমান, শাফি আহমেদ, কানিজ আশরাফি, তসউর আলী, মোস্তফা কামাল মিলন, ড. রোয়াব উদ্দিন, ড. নুরুল ইসলাম, রাহেল ইয়াহিয়া, হাবিবুর রহমান, মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ টিপু, জাকির হোসেন পারভেজ, রাজিয়া মান্নান, মুনজেরিন রশীদ, হাসনা রহমান, রোকসানা গনি, সাঈদা চৌধুরী, মিসবাহ আহমেদ, সেলিনা রহমান, আশরাফুন হোসেন এবং শওকত মাহমুদ টিপুর ছেলে সাজিদ মাহমুদ। মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা শিশু ছিলেন বা ওই সময়ের পরে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁরাও অত্যন্ত আগ্রহভরে পিতা-মাতা, দাদাদাদীর কাছ থেকে শোনা বাস্তব ঘটনাসমূহ তুলে ধরেন।
নতুন প্রজন্মের জন্য দেশটির মানুষের যুদ্ধকালীন কঠিন সময়?পার করার অভিজ্ঞতা গ্রন্থাকারে লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঢাকা ‘ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আগামী প্রজন্মের মাঝে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং তা তাদের অন্তরে গ্রোথিত করার গুরুত্বের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এই প্রজন্মের শিক্ষক কানিজ আশরাফির বক্তব্যের সূত্র ধরে ২৫ মার্চের কালরাতের গণহত্যাকে বিশ্বের সবচেয়ে অমানবিক, নৃশংস ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা আখ্যায়িত করে গৌস সুলতান বলেন, পাকিস্তানীরা ঐ রাতে ঢাকার তিনটি স্থাপনাকে নিমেষেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। তারা ভাবতো যে, শহীদ মিনারে এমন কী আছে যে বাঙালিরা ওখানে গিয়ে শপথ নিয়ে বেপরোয়া ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। তারা সেদিন ডিনামাইট দিয়ে শহীদ মিনারকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, ধ্বংস করেছিল দৈনিক ইত্তেফাক ও দ্য পিপল নামক পত্রিকাদ্বয়ের স্থাপনা। পাকবাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো, তৎকালীন ইপিআর এবং রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টারে যে ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল, তা দুনিয়ায় নজিরবিহীন। তিনি এই জঘন্য গণহত্যার দিনটাকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসে ইতিহাসভুক্ত করার আহ্বান জানান।
‘সাড়ে ১৬ বছর বয়সী সহোদর ভাইয়ের সম্মুখে ১৮ বছর বয়সী বড় ভাইকে পাকসেনারা গুলি করে হত্যা করেছিল’- বিটিএর সদস্য তসউর আলীর বক্তব্যে উঠে আসে পূর্ণ বিজয়ের মাত্র এক দিন আগে প্রিয় ভাইয়ের এমন হৃদয়বিদারক হত্যার কান্নাজড়িত বিবরণ যা উপস্থিতদের আবেগবিহ্বল করে তোলে।
বিএটিএর সদস্যগণ ছাড়াও কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এতে অংশ নেন। স্মৃতিচারণ শেষে সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশনে অংশ নেন সংগঠনের সদস্য মোস্তফা কামাল মিলন, মুনজেরিন রশীদ, মিসবাহ কামাল আহমেদ, এ কে এম এহিয়া ও আশরাফুন হোসেন। এছাড়া আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পী সৈয়দ তারেক ও সাঈদা চৌধুরী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি