Share |

পাকিস্তানের রাজনীতি নিয়ে চটেছেন জেমিমা

পত্রিকা ডেস্ক
লণ্ডন, ১৮ এপ্রিল: পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গো?স্মিথের লণ্ডনের বাসার সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন পিএমএল-এনের এক নেতা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জেমিমা বলেছেন, এ যেন সেই পুরোনো পাকিস্তান, তিনি যেন সেই নব্বই দশকের পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুর মেলাননি পাকিস্তানের সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এর একপর্যায়ে গত মাসে পার্লামেন্টে ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব তোলে পিএমএল-এন নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো, পরে সেই অনাস্থা  ভোটেই ক্ষমতা হারিয়েছেন ইমরান খান।                       
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পাকিস্তানে অনুসারীদের প্রতি বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহেরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই)  নেতা ইমরান। তাঁকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসা দল পিএমএল-এনের  নেতাদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এর প্রতিক্রিয়ায় পিএমএল-এন আবেদ শের আলী বৃহস্পতিবার এক টুইটে লন্ডনে জেমিমার বাসার সামনে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। টুইটে জেমিমার বাসার পুরো ঠিকানা তুলে দিয়ে ইমরানের বিরুদ্ধে বিষোদগারও করেছেন তিনি।
জবাবে গত শুক্রবার এক টুইটে জেমিমা বলেছেন, ‘আমার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, আমার সন্তানদের টার্গেট করা, সামাজিক মাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষ...মনে হচ্ছে আমি যেন নব্বই দশকের লাহোরে ফিরে গেছি। এখানে তফাত হচ্ছে, পাকিস্তানের রাজনীতি নিয়ে আমার করার কিছুই নেই। আমার সন্তানদেরও কিছু করার নেই। তারা নিজেদের নিয়েই থাকে। এমনকি সামাজি যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় নয়।’
জেমিমার এই টুইটের জবাব দিয়েছেন আবেদ শের আলী। এই বিক্ষোভের জন্য ইমরান খানকে দায়ী করেছেন তিনি। পিএমএল নেতা আবেদ শের আলী লিখেছেন, তিনি (ইমরান) তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ এবং সেখানে হামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি প্রতিদিন বিদ্বেষ ও সন্ত্রাসবাদ উসকে দিচ্ছেন।
শের আলী বলেছেন, জেমিমার বাসার সামনের বিক্ষোভ ‘শান্তিপূর্ণ ও অহিংস’ হবে।
এই পরিস্থিতিতে পিটিআই ও পিএমএল-এন নেতাদের প্রতি এ ধরনের বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর।
এক টুইটে হামিদ মীর বলেছেন, পিটিআইকে অবশ্যই লন্ডনে বাড়ির (নওয়াজ শরিফের) সামনে বিক্ষোভ বন্ধ করতে হবে। আর পিএমএল-এনের জেমিমার বাড়ির সামনে একই কাজ করা উচিত হবে না।
১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জয়ী পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন ইমরান খান। ১৯৯৫ সালে এই পাকিস্তানিকে বিয়ে করেন যুক্তরাজ্যের নাগরিক জেমিমা গোল্ডস্মিথ। তাঁর বাবা-মা ছিলেন ইহুদি। ২০০৪ সালে ইমরান খানের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় জেমিমার। এই দম্পতির দুই সন্তান।
বিচ্ছেদের পর পাকিস্তান ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে লন্ডনে স্থায়ী হন জেমিমা। এরপর বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানে থাকাকালে ইহুদিবিদ্বেষের শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
ইমরান খানের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানো নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি  জেমিমা। তবে তাঁর ভাই যুক্তরাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য জ্যাক গো?স্মিথ ও বেন গো?স্মিথ সাবেক ভগ্নিপতি ইমরানের সমর্থনে টুইট করেছেন।
মিনিস্টার ফর দ্য প্যাসিফিক অ্যান্ড দ্য ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টের দায়িত্ব পালনকারী জ্যাক গো?স্মিথ এক টুইটে লিখেছেন, ‘ইমরান খান একজন ভালো মানুষ। তিনি একজন পরিশীলিত ব্যক্তি। বিশ্বমঞ্চে সবচেয়ে কম দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদদের একজন। আগামী নির্বাচনে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তিনি আবার ফিরে আসবেন, সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।’