Share |

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে জয়, জগন্নাথপুরে মিষ্টি বিতরণ

পত্রিকা ডেস্ক
লণ্ডন, ০৯ মে: যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুনামগঞ্জের প্রবাসী-অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলার অন্তত আটজন প্রবাসী বাংলাদেশি কাউন্সিলার পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের বিজয়ের খবরে ওই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আনন্দের বন্যা বইছে।
বিজয়ী কাউন্সিলারদের স্বজনেরা আনন্দ-উচ্ছাস ও এলাকাবাসীর মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করছেন।
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের ছয়জন প্রবাসী কাউন্সিলার পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে শাহারপাড়া গ্রামের সাবিয়া কামালী লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে লণ্ডন বারা অব নিউ হামের স্টাটপোর্ট এলাকা থেকে, সৈয়দপুর গ্রামের সৈয়দা সায়মা আহমেদ লণ্ডনের রেড ব্রিজ এলাকা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো, একই গ্রামের সৈয়দ আলী আহমেদ লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে রচডেল এলাকায় তৃতীয়বারের মতো কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। এ ছাড়া একই গ্রামের সৈয়দ শেকুল ইসলাম লেবার পার্টি থেকে লণ্ডনের রেড ব্রিজ বারার ক্রানব্রোক ওয়ার্ডের, শেখ আবদুল কাদির লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী হিসেবে সেন্ট্রাল সাউথসি ওয়ার্ডে প্রথমবারের মতো এবং সৈয়দ আবদুল হাফিজ লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে লণ্ডন পোর্ট সাউথ বাফিন্স ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিল নির্বাচিত হয়েছেন। আবদুল হাফিজ টানা তৃতীয়বারের মতো কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। তিনি সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
নবনির্বাচিত কাউন্সিলার সৈয়দ শেকুল ইসলামের শ্যালক সৈয়দ  রেজওয়ান আহমেদ বলেন, ‘আমার বোনজামাই সৈয়দ শেকুল ইসলাম চার মাস আগে দেশে এসে গ্রামের বাড়িতে এক মাস থেকে গেছেন। তিনি গ্রামের মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখেন। বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখেন। তাঁর কাউন্সিলার নির্বাচিত হওয়ার খবরে আমরা খুবই খুশি।’
অন্যদিকে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শাকিলা বেগম ওয়ালসাল পালফ্রি ওয়ার্ড থেকে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলার নির্বাচিত হয়েছেন। আর রেবেকা সুলতানা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল বেথনাল গ্রিন ওয়ার্ডে লেবার পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলার নির্বাচিত হন। তাঁর বাড়ি উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন। তাঁর স্বামী আহাদ চৌধুরী লণ্ডনের ‘দ্য এডিটরস’-এর সম্পাদক।
আরেক কাউন্সিলার শেখ আবদুল কাদিরের চাচাতো ভাই শেখ রামিম আহমেদ বলেন, তাঁর চাচাতো ভাই লণ্ডনে কাউন্সিলার পদে জয়ী হওয়ার খবরে পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ চলছে। তিনি দেশে এলে আরও বড় পরিসরে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। লণ্ডনের পাশাপাশি গ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক ভূমিকা রাখছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী সাংবাদিক শাহেদ রহমান ও আমিনুল হক বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র পদে সিলেটের লুতফুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। কাউন্সিলার পদে বিভিন্ন শহর থেকে ইতিমধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার আটজন কাউন্সিলার নির্বাচিত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের বিজয়ে লণ্ডনের বাঙালি কমিউনিটিতে আনন্দের বন্যা বইছে।
সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আবুল হাসান বলেন, লণ্ডন থেকে দেশে এসে তিনি  চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আবার বাংলাদেশ থেকে লণ্ডনে গিয়ে এলাকার সন্তানেরা মেয়র ও কাউন্সিলার নির্বাচিত হচ্ছেন, যা সত্যিই  গৌরবের। তাঁর ইউনিয়নের পাঁচজন বাসিন্দা যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলার নির্বাচিত হওয়ায় ইউনিয়নবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বলেন, তাঁরা নির্বাচিত হওয়ায় দেশে থাকা স্বজনদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্াস, মিষ্টি বিতরণ চলছে।
জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ কাদির বলেন, ‘টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাচনে সিলেটের লুতফুর রহমান তৃতীয়বারের মতো মেয়র এবং কাউন্সিলার পদে জগন্নাথপুরের বাসিন্দাদের জয়জয়কারে আমরা সত্যিই খুবই আনন্দিত ও গর্বিত।’