Share |

সংবাদ সম্মেলনে জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা : নতুন নাম ‘বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ’

লণ্ডন, ১৪ ডিসেম্বর : যুক্তরাজ্যভিত্তিক কল্যাণ সংগঠন জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ ইউকের নাম পরিবর্তন করে ‘‘বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ’ নামকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সংগঠনের উদ্যোগে আগামী বছরের ১৪ মার্চ লণ্ডনে ‘এনআরবি দিবস’ (ন্যাশনাল নন রেসিডেন্ট দিবস) উদযাপনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
গত ৭ ডিসেম্বর মঙ্গলবার লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি আশিকুর রহমান, সেক্রেটারি মাঈন উদ্দিন আনসার ও প্রেস এণ্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি আনিসুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ সব সময়ই প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলের মধ্যে এই
সংগঠনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। জালালাবাদ শুধুমাত্র একটি নাম। কিন্তু অনেকেই জালালাবাদ বলতে শুধু সিলেটকেই বুঝেন। তাই আমাদের কার্যক্রমের ব্যাপকতা বিবেচনায় যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশী হাইকমিশনার সাঈদা মুনা তাসনিম, অনেক সুধীজন ও পরিষদের পেট্রন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের পরামর্শে জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ ইউকের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এখন থেকে এই সংগঠনের নাম হবে ‘বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ’।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেই সব বীর শহীদ এবং তাদের পরিবার বর্গের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর পূর্বে কয়েকজন সমাজ হিতৈষী প্রবাসী কমিউনিটি ব্যক্তিত্বের উদ্যোগে জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ গঠিত হলেও পরিষদের লক্ষ্য ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সার্বজনীন। মূলত একজন প্রবাসী তিনি যে অঞ্চলেরই হোন তাদের সকলের চাওয়া পাওয়া, সমস্যা ও সংকট অভিন্ন। তদপুরি স্বদেশ পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তাবোধের কারণে বাংলাদেশীরা সাধারণত একই এলাকার পাশাপাশি গ্রাম মহল্লার প্রতিবেশীর মতোই বসবাস করে আসছেন।
জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ যুক্তরাজ্যে ইউকে জন্মলগ্নে থেকে মূলতঃ প্রবাসীদের কণ্ঠস্বর ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে আসছে। পরবর্তীতে পরিষদের কর্যক্রম প্রবাস ছাড়িয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশেও বিস্তৃত হয়েছে। সেই থেকে বিদেশে প্রবাসীদের সমস্যা নিয়ে যেমন কাজ করে আসছে, তেমনি প্রবাসীদের উদ্যোগে বাংলাদেশের জনজীবনের উন্নয়ন, দুর্যোগ ও সংকটকালীন সহায়তা এবং দুস্থ আসহায় ও অসুস্থ মানুষের সেবায় ভূমিকা রেখে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, একথা বলা মোটেই বাহুল্য হবে না যে যারা প্রবাসে বসবাস করেন তাদের চাকরি, পেনশন ও আয় রোজগারের মূল লক্ষ্যই থাকে নিজ দেশে পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজনের সুখ ও জীবন চলার পথকে সুগম রাখায় সহযোগিতা করা এবং সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, কৃষি ও শিক্ষাখাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। এমনকি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের বিশেষ করে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা রয়েছে। বিচারপ্রতি জনাব আবু সাঈদ চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই ব্রিটেনে থেকেই প্রবাসীদের সাথে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছেন। দেশ স্বাধীন হবার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে প্রথম লণ্ডনে আসেন এবং সাংবাদিকদের সামনে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশ কীভাবে চালাবেন সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। এর দ্বারা মাতৃভূমির প্রতি ব্রিটেন প্রবাসীদের ভূমিকা ও অবদান সহজেই অনুমেয়। অথচ দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য যে প্রবাসীরা আজ নানাভাবে নিজ মাতৃভূমিতেও অবহেলিত।