Share |

সিলেটে প্রবাসী প্রার্থীদের চমক

সিলেট, ১ ফেব্রুয়ারি : সিলেটে চমক দেখালেন প্রবাসী প্রার্থীরা। নৌকার টিকিট নিয়ে প্রার্থী হয়েই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন বেশির ভাগ প্রবাসী। তাদের ঘিরে ভোটের মাঠে ছিল ভিন্ন আমেজ। ছিল উত্তাপ-উত্তেজনাও। তবে প্রশাসনের কঠোরতার কারণে অন্তত ভোটের দিন কোনো অঘটন ঘটেনি।
গত সোমবার সিলেট জেলার ৫ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ফলাফলে দেখা গেছে; ১৫টির মতো ৯টি ইউনিয়নে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বাকি ৬টিতে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।
তবে- ইভিএমে ভোটগ্রহণ করে অনেক জায়গায় অসন্তোষ দেখা দেয়। এর কারণ হচ্ছে- ধীরগতিতে ভোটগ্রহণ। অনেক কেন্দ্রে ইভিএমে একটি ভোট
গ্রহণে ১০-১২ মিনিট লেগেছে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বক্তব্য হচ্ছে; ভোট প্রদানের নিয়ম না জানার কারণে বিলম্ব হয়েছে। সকালের দিকে কিছুটা বিলম্ব হলেও বিকালে দিতে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। ৬ষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন নির্বাচনে ওসমানীনগরের ৮ ইউনিয়নেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপজেলায় মোট ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জনই ছিলেন প্রবাসী। বেশির ভাগ ইউনিয়নে জয়ী হয়েছেন প্রবাসী প্রার্থী। উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন তাজপুর কলেজের সাবেক ভিপি ও যুক্তরাজ্য যুবলীগ নেতা সাহেদ আহমদ মুছা, বুরুঙা ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আখলাকুর রহমান, তাজপুর ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রবাসী কমিউনিটি নেতা ঝলক পাল, উমরপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া, গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে প্রবাসী নেতা পীর মজনু মিয়া, উসমানপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা ওয়ালিউল্লাহ বদরুল, পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী
গোলাম রব্বানী চৌধুরী সুমন, দয়ামীর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী এসটিইউ ফখর উদ্দিন। গোয়াইনঘাটের আলীরগাঁও পশ্চিম ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবাসী নেতা গোলাম কিবরিয়া হেলাল ও পূর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। দক্ষিণ সুরমার দুটি ইউনিয়নের মধ্যে একটিতেও জয় পায়নি আওয়ামী লীগ। তবে সিলেট-৩ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান হাবিবের ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী একরামুল হক জয়লাভ করেছেন। আর তেতলী ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ওলিউর রহমান ওলি। কোম্পানীগঞ্জের পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিয়াদ আলী জয়ী হন। আর বিশ্বনাথের খাজাঞ্চি ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আরশ আলী হিরণ জয়লাভ করেন। লামাকাজি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ফয়সল আহমদ জয়লাভ করেন। ৬ষ্ঠ ধাপের ইউনিয়ন নির্বাচনে সিলেটে হয়েছে টাকার খেলা। বিশেষ করে ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথে প্রবাসী প্রার্থীরা নির্বাচনে টাকা খরচ করেন। তাদের পক্ষে এসে প্রবাসীরাও এসে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। এ কারণে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে টান টান উত্তেজনা ছিল। পুলিশ সতর্ক থাকার কারণে গতকাল রাত পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি। তবে- ভোটের আগের রাতে গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে উত্তেজনা ছিল। তাজপুর ও উসমানপুর ইউনিয়নেও উত্তেজনা কমতি ছিল না। নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- ইভিএমে ভোটগ্রহণ করার কারণে কারচুপির কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোটাররাও এসে স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তারা। সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন- যারা প্রবাস থেকে এসে প্রার্থী হয়েছিলেন তাদেরও দলের প্রতি অবদান রয়েছে। কেউ যুক্তরাজ্য, কেউ যুক্তরাষ্ট্র আবার কেউ মধ্যপ্রাচ্যে থেকে এসে প্রার্থী হন। কিন্তু তারা দেশে রাজনীতি করেছেন। আবার অনেকেই প্রবাসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নানা দুর্যোগে প্রবাসীদের অবদান রয়েছে। এবার বেশি সংখ্যক প্রবাসী প্রার্থী জয় পাওয়ায় দলের নেতাকর্মীরা খুশি হয়েছেন। এতে করে তৃণমূলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করেন তারা।