Share |

ইউক্রেন আগ্রাসন : আবার যুদ্ধের দামামা?

ইউক্রেনে পরাশক্তি রাশিয়ার যুদ্ধের সূচনা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষকে হতবাক করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে আক্রমণ করেছেন স্থল, জল ও আকাশ পথে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আক্রমণ ছিল পুতিনের জন্য অনিবার্য। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি অযাচিত আগ্রাসন, একটি স্বাধীন দেশকে দখল করা ও যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া অনুচিত। এতে শুধু ইউক্রেনেই মানবিক বিপর্যয়ই ঘটছে না, এর প্রভাব দুনিয়াজুড়েই অনুভূত হবে।
আমরা পেছন ফিরে যদি তাকাই তবে দেখতে পাবো, নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে ইউক্রেন স্বাধীন সত্ত্বা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে বিশ্বমানচিত্রে। এরপর ধীরে ধীরে দেশটি নানা সংকট পাড়ি দিয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ‘ন্যাটো’তে যোগদানের অভিপ্রায় প্রকাশ করে এবং সেই সম্ভাবনাও এগিয়ে যায়। এটি রাশিয়ার নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়াসহ এক পর্যায়ে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন ভাবনা রাশিয়ার জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। কারণ, ইউক্রেন রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ এবং প্রায় দু’হাজার মাইল সীমান্ত রয়েছে দু’দেশের। ‘ন্যাটো’র সামরিক উপস্থিতি তখন হবে রাশিয়ার দোরগোড়ায়। গত দশকগুলোর ‘স্নায়ূযুদ্ধ’র মোড়কে ‘ন্যাটো’ ক্রমান্বয়ে রাশিয়াকে কোণঠাসা করার একটি প্রক্রিয়া পূর্ব ইউরোপে ‘ন্যাটো’র বিস্তার। পূর্ব ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন ত্যাগের পর পশ্চিমা জোট ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়’ভুক্ত করার মধ্যদিয়ে ‘ন্যাটো’ভুক্ত করার পাঁয়তারা চলছে। এর বর্তমান পরিণতি ‘ইউক্রেন যুদ্ধ’।
এ যুদ্ধ বাঁধানোর জন্য এখন কে দায়ী বা কার দোষ এ মুহূর্তে এটা আমরা খোঁজব না। আমরা চাই মানবিক বিপর্যয় থেকে সাধারণ জনগণকে মানবজাতিকে রক্ষা করা অপরিহার্য। একটি শান্ত ও শান্তিপূর্ণ মানবগোষ্ঠীকে বোমা আর মারণাস্ত্র দিয়ে চুরমার করে দেয়ার প্রক্রিয়াকে কেউ সমর্থন করতে পারে না।
লক্ষ্য করার মতো বিষয়, গত সপ্তাহে প্রায়?একই সময়ে সিরিয়ার দামাস্কাসে ইজরাইলি বিমান হামলা, ইয়েমেন সৌদির বিমান হামলা এবং সোমালিয়ায় মার্কিন বোমা ফেলে ব্যাপকসংখ্যক মানুষ মারা হয়েছে। আমরা জানি, ভূ-রাজনৈতিক খেলা পরাশক্তিধরদের জন্য তুচ্ছ ব্যাপার। কে মরলো আর কে বাঁচলো, সেটার জন্য মাথাব্যথা কম। নির্বিঘেœ, এসব বোমা কারা ফেলে মানুষ হত্যা করে, সেটার প্রতিবাদ বা রুখে দেয়ার কোন উচ্চবাচ্য নেই,- না গণমাধ্যম, না কোন রাষ্ট্রযন্ত্রের।
রাশিয়ার হুমকি হয়ে দাঁড়ানো ‘ন্যাটো’র বিস্তৃতি- পুতিন সহ্য করতে পারেননি। তাই ‘ন্যাটো’কে রুখে দিতে পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধ বাঁধিয়ে?বসেছেন। এটিও আরেকটি বিপদজনক পন্থা।
যে যাই বলুক, সংঘটিত এ যুদ্ধে আমরা পৃথিবী বা ধরিত্রীর বিপন্ন চেহারা দেখছি, বিশ্বমানবজাতির জন্য শান্তির বার্তা নয়, একটি নোংরা খেলা এবং প্রাণীকূলকে মুছে দেয়ার পাঁয়তারা বলেই গণ্য করতে চাই। রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের মধ্যদিয়ে বিশ্বে আবার যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠেছে তার পরিণাম সবাইকেই ভোগ করতে হবে। তাই আমেরিকা না রাশিয়া এই পক্ষাবলম্বনে জনগণের কোন লাভ নেই? কারণ, যুদ্ধ শুধু অস্ত্রবণিকদের পোয়াবারো এনে দেয়।
আমরা এই আগ্রাসনসহ যেকোন আগ্রাসনের নিন্দা জানাই। বলি, অবিলম্বে বন্ধ হউক যুদ্ধ। দাবী জানাই, সভ্যতাবিনাশী যুদ্ধ ও মানব সংহারের সকল পদক্ষেপ পরিহারের। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের গন্ধ দূর হউক। মানবিক বিশ্বের জয় হউক।