Share |

গ্রেটার বড়লেখা এসোসিয়েশনের অভিষেক অনুষ্ঠানে আপসানা বেগম এমপি : হাউজ অব কমন্সে বাংলা ভাষা নিয়ে কথা বলতে পেরে আমি গর্বিত

লণ্ডন, ৩ এপ্রিল: গ্রেটার বড়লেখা এসোসিয়েশন ইউকের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় আপসানা বেগম এমপি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ব্রিটেনের হাউজ অব কমন্সে বাংলা ভাষা নিয়ে কথা বলতে পেরে আমি গর্বিত।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি কনস্যুলার কর্মকর্তা দেওয়ান মাহমুদুল হক, সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও লণ্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ ও অভিনেতা স্বাধীন খসরু।
গত ২৭ মার্চ রোববার পূর্ব লণ্ডনের একটি অভিজাত হলে গ্রেটার বড়লেখা এসোসিয়েশন ইউকের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি লিয়াকত খান।
শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম দুদু। পরে সমবেত কণ্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
প্রধান অতিথি আপসানা বেগম এমপি বলেন, আমাদের বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেক অর্জন আছে যেগুলো মেইনস্ট্রিমে ব্রিটেনকে গর্বিত করে। বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে বহু-সাংস্কৃতিক লণ্ডনে তুলে ধরতে এবং অটুট রাখতে সবচেয়ে বেশী কাজ করেছেন আমাদের অগ্রজরা। মূলত তাদের কারণে ব্রিটেনে বাংলাদেশী কমিউনিটি আজকের এই অবস্থায় আসতে পেরেছে। তিনি প্রবীণদেরকে ‘বাংলাদেশী কমিউনিটির ব্যাকবউন’ উল্লেখ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশী এমপিদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী এমপি আপসানা বেগম জানান, এবছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের মহান একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার জন্য বাঙালিদের আত্মত্যাগ, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে অর্জন এবং ব্রিটেনে বাংলা ভাষা চর্চার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এই প্রথম ব্রিটেনের হাউজ অব কমন্সে বাংলা ভাষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি এই উদ্যোগটি নিতে পেরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী হিসাবে গর্বিত। অনেক পার্লামেন্টেরিয়ান আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেছেন, এর আগে ভাষার জন্য বাংলাদেশীদের এই মহান আত্মত্যাগের কথা তারা জানতেন না। তিনি বলেন, ‘আমি আমার পূর্বসূরীদের কথা শ্রদ্ধায় মনে রেখে আবেদন করেছি যে- ‘আমার ভূমিকা বক্তৃতায় আমি সিলেটীতে কয়েকটি বাক্য বলতে চাই যা পরে আমি ইংরেজীতে অনুবাদ করবো। হাউজ অব কমন্স কর্তৃপক্ষ তাতে অনুমোদন দিয়েছেন এবং আমি সিলেটীতে কথা বলেছি যা ব্রিটেনে বাংলা ভাষীদের জন্য ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে বলে বিশ্বাস করি।’
বিশেষ অতিথি যুক্তরাজ্যস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি কনস্যুলার কর্মকর্তা দেওয়ান মাহমুদুল হক মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বলেন, প্রবাসী সংগঠনগুলো ব্রিটেনে আলোকিত কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরছে এবং বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো অতীতের ধারাবাহিকতায় কমিউনিটির মধ্যে একটি শক্ত বন্ধন তৈরী করেছে।
বিশেষ অতিথি সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ প্রবাসী সংগঠনগুলোর বাংলাদেশে শিক্ষা ও সংস্কৃতির নানা শাখায় সেবামূলক কাজে সহযোগিতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, একটি লাইব্রেরী একটি সমাজকে মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিক করতে বহুলাংশে ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের উন্নয়নে প্রবাসী সংগঠনগুলোর এসব কাজে মনোনিবেশ করা বর্তমান সময়ে খুব জরুরী উল্লেখ করে তিনি গ্রেটার বড়লেখা এসোসিয়েশন ইউকে এধরনের উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান।
বিশিষ্ট অভিনেতা স্বাধীন খসরু মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রবাসীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে বলেন, আমাদের নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশে নিয়ে গেলে সকলের উচিত মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া। তিনি তার গ্রামের পৈতৃকবাড়িটি ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের একটি সংগ্রহশালা করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে এতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ৫২বাংলার সম্পাদক ও কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি মহান মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের প্রবীণদের দেখানো পথে আমাদের প্রজন্মও ব্রিটেনে বাংলাদেশকে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরছেন। তিনি ফেব্রুয়ারি মাসে হাউস অব কমন্সে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আপসানা বেগম এমপির বাংলাভাষা নিয়ে বক্তব্য এবং এর উদ্যোগে গ্রহণ করায় সকলের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। এছাড়া গুরুত্ব দিয়ে হাউস অব কমন্সে আপসানা বেগম এমপির সিলেটী ভাষার প্রকাশ ও প্রচার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ চি? হয়ে থাকবে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ আর্তমানবতার সেবায় কাজ করা গ্রেটার বড়লেখা এসোসিয়েশন ইউকের নতুন কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে আগামীতে নতুন প্রজন্মদের সম্পৃক্ত করে অনুষ্ঠান করার প্রতিও গুরুত্ব আরোপ করেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদ আকবর হোসেন, কার্যকরি কমিটির সদস্য সিরাজ উদ্দিন ও সালাউদ্দিন এনাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলার ফারুক চৌধুরী, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সংগঠনের উপদেষ্টা আহমেদ যুবায়ের লিটন, বড়লেখার সাবেক ব্যবসায়ী ও ফুটবলার আহমদ হোসেন, জুড়ী টি এন খানম কলেজের সাবেক অধ্যাপক কমিউনিটি কর্মী সফিকুল হক স্বপন, বড়লেখা ফুটবল ক্লাব ইউকের সভাপতি সাহাব উদ্দিন, উপদেষ্টা আব্দুস শুকুর, বড়লেখা ফাউণ্ডেশন ইউকের সাধারণ সম্পাদক আবু রহমান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গ্রেটার বড়লেখা এসোসিয়েশন ইউকের উপদেষ্টা আব্দুর রহিম, নজরুল ইসলাম ও আব্দুস শুকুর। সংগঠনের সহ সভাপতি খলিলুর রহমান, মাহবুব রশীদ মুসা, মোস্তাক আহমেদ, নাঈম শহীদ আসুক ও হাফিজ উদ্দিন। ট্রেজারার বদরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদ পংকি খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক তুহিন খান আলম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ফয়সল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আলীম উদ্দিন, সাহিত্য সম্পাদক কাজল সরকার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হামিদ, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহিন আহমদ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলী আহমদ এবং সংগঠনের কার্যকরি সদস্য সিরাজ উদ্দিন, রুহুল আমীন ও শিব্বির আহমদ।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সঙ্গীত পরিবেশন করেন ক্লোজ আপ ওয়ান এর তারকা শিল্পী রানা খান এবং সহশিল্পী হাসান আহমেদ ও তানিম আহমেদ। দেশাত“বোধক ও আবহমান বাংলার গান পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে মুগ্ধতায় মাতিয়ে রাখেন শিল্পীরা।
সভাপতি লিয়াকত খানের ধন্যবাদ বক্তব্যের পর রাতের খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি