Share |

হাজার হাজার কোটি টাকার লোপাট-বাণিজ্য : ভারতে আটক পি কে হালদারের প্রতারণার সকল সহযোগীকে বিচারের আওতায় আনতে হবে

বাংলাদেশের হাজার হাজার কোটি টাকার লোপাট-বাণিজ্যের হোতা বর্তমানে ভারতের ‘মাছ ব্যবসায়ী’ পি কে হালদারকে সাঙ্গপাঙ্গসহ গত ১৪ই মে পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও দুদকের অনুরোধে ভারত সরকার এই গ্রেফতার অভিযান চালায় বলে জানা যাচ্ছে।
তাঁর আটকের পর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর জালিয়াতি আর লুটপাটের যেসব তথ্য?ওঠে আসছে তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর। এতে বলা হচ্ছে, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পরই পিকে হালদার নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠা করেন ভুয়া কোম্পানি। এগুলোর নামে শেয়ার কিনে একে একে পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পর্ষদে ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন নিজের আত্মীয়-স্বজন বা অনুগত ব্যক্তিদের। এরই ধারাবাহিকতায়?সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের একটি বাণিজ্যক ব্যাংক ও পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশান্ত কুমার হালদার বা পিকে হালদার প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গিয়েছিলেন ভারতে। এর মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার করেছেন। বাকি টাকা স্থানান্তর করেছেন সহযোগী বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবে।
কিন্তু এতকিছুর পরও তাঁর লোভ থামেনি। তিনি নিজেকে শিবশঙ্কর হালদার পরিচয় দিয়ে ভারতের বেশকিছু সরকারি পরিচয়পত্র, যেমন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রেশন কার্ড, ভারতের ভোটার পরিচয়পত্র, আয়কর দফতরের পরিচয়পত্র পিএএন, নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র, আধার কার্ড ইত্যাদি পরিচয়পত্র জোগাড় করেছিলেন। তার সহযোগীরাও ভারতীয় নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন।
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে মানি লন্ডারিংয়ের ৩৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তদন্ত কার্যক্রমও শেষ। বাকি ৩১টি মামলার তদন্ত অনেকদূর এগিয়েছে।
এতেদিনে ভারতে ‘শান্তিপূর্ণ’ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া পি কে হালদারকে তো অবশেষে ধরা হলো। আমরা অনুমান করতে পারি, হঠাৎ করেই কিংবা একদিনে পি কে হালদার এই লোমহর্ষক কুকাণ্ডগুলো করেননি আর শুধু তাঁর আত“ীয়-স্বজনকেই এই লোপাট-বাণিজ্যে ব্যবহার করেননি। জানা যাচ্ছে, পি কে হালদারের আত্মসাৎকৃত বিশাল অর্থভাণ্ডারের কিছু অংশ  বাংলাদেশের প্রভাবশালীরা ভাগ-ভাটোয়ারা করে নিয়েছেন।
পিকে হালদারের আত“সাৎ করা বেশকিছু অর্থ বিদেশে পাচারের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাকি টাকার কোনো সন্ধান না মেলায়?ধারণা করা হচ্ছে, এসব টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়েছে। এই বেআইনি কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সাবেক ডেপুটি গভর্নর, এক নির্বাহী পরিচালকসহ কয়েক কর্মকর্তা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। আমাদের প্রশ্ন তাদেরকে কবে ধরা হবে? লোপাট বাণিজ্যের মূলোৎপাটন করতে হলে এর বিকল্প নেই।
এই বৃহৎ ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যথাযথ এবং?কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে অপরাধী চক্রের শক্তি বেশি না রাষ্ট্রের এবং আইনের ক্ষমতা বেশি। এসব ঘটনায়?বাংলাদেশের জনগণের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। আমরা চাই, পি কে হালদারের প্রতারণার সকল সহযোগীকে বিচারের আওতায় আনা হোক শ্রীলংকার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখেও কি রাষ্ট্র পরিচালকরা সজাগ হবেন না? দেশটির ভয়াবহ দেউলিয়াত্বের পেছনে দুর্নীতি ও অর্থ পাচার অন্যতম কারণ বলেই জানা গেছে। বাংলাদেশের জন্য?এটি বড় ধরনের সতর্কতা হিশেবেই নিতে হবে।