Share |

ইন্টারেস্ট রেইট বাড়লো : যুক্তরাজ্যে মন্দা, ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

পত্রিকা প্রতিবেদন
লণ্ডন, ১৬ মে: যুক্তরাজ্য আবার অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে ব্যাংক অব ইংল্যাণ্ড। বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি চলতি বছরে শেষ নাগাদ ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে ইন্টারেস্ট রেইট ০.৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করেছে।
২০০৯ সালের পর এটি ব্যাংক অব ইংল্যাণ্ডের সর্বোচ্চ সুদহারের রেকর্ড। আর মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশে উঠার বিষয়টি হবে ১৯৮২ সালের পর সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির ঘটনা।
করোনা মহামারির ধাক্কায় ২০২০ সালের প্রথম দুই প্রান্তিকে বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছিল। সেখান থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বিশ্ব অর্থনীতি। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় আবারও মন্দার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ, কিন্তু প্রথম প্রান্তিকের শেষ অর্থাৎ মার্চ মাসে সে দেশের অর্থনীতি শূন্য দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সে দেশের মানুষ দৈনন্দিন ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ ভ্রমণও কমিয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে তারা একদম প্রয়োজনীয় নয়, এমন সব ব্যয়ও কমিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তারা আবার মন্দার আশঙ্কা করছে। সংজ্ঞা অনুসারে, পরপর দুই প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হলে তাকে মন্দা বলা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যে কোভিড বিধিনিষেধ উঠে যায়। তখন দেশটির পর্যটন ও যোগাযোগ খাত ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির মাসের শেষ দিকে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। বলা যায়, এই যুদ্ধ যুক্তরাজ্যের বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দেয়।
যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ পল ডেইলস বিবিসিকে বলেন, ‘এই পরিসংখ্যান দেখে বোঝা যায়, মূল্যস্ফীতির সংকট শুরু হওয়ার আগে অর্থনীতিতে যে গতি এসেছে বলে ভাবা হয়েছিল, সেই গতি আদতে আসেনি।?’ তিনি মনে করেন, নতুন আরেক মন্দার পর্ব শুরু হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি পূর্ণাঙ্গ মন্দার কবলে পড়তে পারে।