Share |

নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানী রফিকউদ্দিন আহমেদের ইন্তেকাল

ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল মুসলিম কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন
লণ্ডন, ১৬ মে: অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযানের লুনার মডিউলের রাডার নকশাকার বিশিষ্ট মহাকাশ বিজ্ঞানী রফিক উদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সত্তরের দশকের আলোচিত অ্যাপলো-১১ মহাকাশযানের গুরুত্বপূর্র্ণ অংশ লুনার মডিউলের রাডার নকশা প্রণয়ন ও কারিগরি কার্যক্রমে যুক্ত থাকা এই বিজ্ঞানী গত ১২ মে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫৫ মিনিটে নিউইয়র্কের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভূগছিলেন। তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৬ বছর।
আগের দিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি স্ট্রোক করেছেন বলেন জানান কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক সময় শনিবার রাতে রফিক উদ্দিনের ইন্তেকালের খবর নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা।

বর্ণাঢ্য জীবন
সিলেট পাইলট স্কুলের ছাত্র রফিক উদ্দিন আহমেদ দেশে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি আমেরিকায়?পাড়ি জমান। সেখানে ইণ্ডিয়ানা টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে ডিগ্রি লাভের পর ১৯৬৮ সালে তৎকালীন সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্রুম্মান অ্যারোস্পেস করপোরেশনে প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের মধ্যদিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
পরে এই প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকেসহ আরও কয়েকজন তড়িৎ প্রকৌশলীকে নাসা, অ্যাপোলো-১১ প্রকল্পের ‘লুনার মডিউল প্রকল্পে’ কাজ করার জন্য নির্বাচন করে। এ দলটি সেসময় মহাকাশযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ লুনার মডিউল-এর রাডার নকশা প্রণয়ন ও কারিগরি কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। চন্দ্র অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজেও সম্পৃক্ত ছিলেন এই মহাকাশ বিজ্ঞানী।
রফিক উদ্দিন আহমেদ ১৯৩৬ সালের ২০ আগস্ট সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গঙ্গানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাক নাম ছিলো পাখি মিয়া।
মরহুম রফিক উদ্দিনের নামাজে জানাযা গত ১৪ মে শনিবার বেলা ১.১৫ মিনিটে নিউইয়র্কের লং আইল্যাণ্ডের বেইশোর দারুল কোরআন মসজিদে অনুষ্ঠানের পর তাঁকে ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
এসময় মরহুম রফিক উদ্দিনের স্ত্রী, দুই কন্যা এবং একান্ত স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রায় চার দশক আগে তিনি নিজেই ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল মুসলিম কবরস্থানে তিনি নিজের কবরের জায়গা ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন।
নিউইয়র্কেই স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও শেকড়ের সাথে সম্পর্ক নিবিড় ছিল তাঁর। রফিক উদ্দিন সিলেট বিভাগের বড় সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘সেইভ সিলেট’-এর চেয়ারম্যান ছিলেন।