Share |

কেম্ব্রিজ মসজিদে ‘মিলিয়ন’ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী উদ্বোধন : ফাণ্ডরেইজিং গালা ডিনার সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা

‘ক্যাম্ব্রিজ সেন্ট্রাল মস্ক’ পরিদর্শনে লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাব

লণ্ডন, ২৩ মে: ক্যামব্রিজ সেন্ট্রাল মস্ক। যেটি ইকো-মস্ক হিসেবেই সুপরিচিত। ইসলামের আধ্যাত্মিক থিমের সাথে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মিশেল এই মসজিদটিকে করেছে অনন্য ও আইকনিক। একুশ শতকের ব্রিটিশ মসজিদের ধারণা থেকে নির্মিত মসজিদটির নান্দনিক নির্মাণশৈলী দেখে যেমন যে কারো চোখ জুড়াবে তেমনি সেখানে নামাজ পড়ে এবং সেটির নির্মাণ ইতিহাস, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনা শুনে অপার প্রশান্তি পাবেন অনেকে। অপূর্ব সুন্দর এই মসজিদটি দেখতে পুরো ব্রিটেন থেকে মুসলমানরা ছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের প্রচুর লোকজন আসেন প্রায় প্রতিদিন। এমনকি ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকেও
দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি দেখতে আসেন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী।
ইউরোপের প্রথম ইকো বা পরিবেশবান্ধব মসজিদটি নির্মাণ করেই ক্ষান্ত নন এর নির্মাতারা। তারা এখন স্বপ্ন দেখছেন পুরো বিশ্বকে গ্রীনহাউজের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে। আর তাই মিলিয়ন্স বৃক্ষরোপনের এক বিশাল কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন তারা। মসজিদের পেছনের গার্ডেনে প্রথম বৃক্ষটি রোপণ করে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর। দ্বিতীয় বৃক্ষটি ব্রিটিশ সিংহাসনের ভাবী উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়ামের হাত দিয়ে রোপিত হবে বলে আশা করছেন এবং এর জন্য সবধরনের চেষ্টাও করে যাচ্ছেন আয়োজকরা। আর এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীকে সফল করতে আগামী ২১ আগস্ট, রোববার ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের চার্চিল কলেজে অনুষ্ঠিত হবে এক বিশেষ ফান্ডরেইজিং ইভেন্ট ও গালা ডিনার। উক্ত ফান্ডরেইজিং ইভেন্ট এবং গালা ডিনার সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন মসজিদটির পরিচালনার সাথে জড়িতরা।
পরিবেশবান্ধব এবং দৃষ্টিকাড়া ডিজাইনের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ এওয়ার্ডে ভূষিত মসজিদটির পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে অনেক আগেই পরিদর্শনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায় লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাব। ২০১৯ সালে চালু হওয়ার পর প্রথম কোনো আমন্ত্রিত মিডিয়া গ্রুপ হিসেবে গত ১৪ মে, শনিবার মসজিদটি পরিদর্শনে যায় ক্লাবের বর্তমান ইসি কমিটির সাথে সাবেক ইসি কমিটির কয়েকজনসহ ১৬ সদস্যের একটি গ্রুপ। লণ্ডন থেকে যাওয়া ক্লাব সদস্যদের সাথে মসজিদে ক্যামব্রিজে বসবাসকারী ক্লাবের কয়েকজন সদস্যও সেখান থেকে যোগদান করেন।
শনিবার সকাল ১০টায় লণ্ডন থেকে একটি মিনিবাসে করে যাত্রা শুরু করে লণ্ডনের বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের দল। লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হকের নেতৃত্বে ক্লাব সদস্যদের গ্রুপে ছিলেন ক্লাব সেক্রেটারি তাইসির মাহমুদ, সিনিয়র সভপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী ট্রেজারার সালেহ আহমদ, সাবেক ট্রেজারার আ স ম মাসুম, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সাঈম চৌধুরী, সাবেক এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মতিউর রহমান চৌধুরী, এসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার এম এ কাইয়ূম, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান, ইভেন্ট এন্ড ফেসিলিটিজ সেক্রেটারি রেজাউল করিম মৃধা, ফার্স্ট ইসি মেম্বার আহাদ চৌধুরী বাবু, ইসি মেম্বার যথাক্রমে শাহনাজ সুলতানা, সারওয়ার হোসেন, আনোয়ার শাহজাহান, সাবেক ইসি মেম্বার আবদুল কাইয়ূম ও ফটোগ্রাফার জি আর সোহেল। ক্যামব্রিজে যাওয়ার পর গ্রুপের সাথে যুক্ত হন সেখানে বসবাসরত ক্লাব সদস্য মামুনুর রশীদ, আকরাম হোসেন, ইব্রাহিম রহমান ও মারুফ আহমদ।
দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে পৌঁছে মসজিদে পৌঁছার পর সেখানে লণ্ডন থেকে যাওয়া বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক দলকে স্বাগত জানান মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা। পারস্পরিক কুশল বিনিময় এবং চা পর্বের পর পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিজিটে যাওয়া লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাব সদস্যদের সাথে মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এক মতবিনিময়ে মিলিত হন।
ব্রিটিশ মূলধারার তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিক ইব্রাহিম রহমানের পরিচালনায় সভায় শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মসজিদের অন্যতম ইমাম হাফিজ মোস্তফা শাহীন। সভায় মসজিদ নির্মাণের বিস্তারিত তুলে ধরেন মসজিদটির অন্যতম রূপকার এবং ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ার শায়েখ প্রফেসর আব্দুল হাকিম মুরাদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টি শাহিদা রহমান, ক্যামব্রিজ ইসলামিক আর্ট এর কো-অর্ডিনেটর সার্জিল সিদ্দিক ও গিভ আস অ্যা লিফট প্রজেক্টের ট্রাস্টি আমিনুল ইসলাম এবং উপস্থিত ছিলেন মসজিদের প্রধান ইমাম ড. সেজাদ মিকি’ক। লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে ক্লাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে মসজিদটি দেখার সুযোগ দিয়ে সম্মানিত করায় মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। উপস্থিত অতিথি সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করে মসজিদ নির্মাণ এবং পরিচালনা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানেন। এসময় জানানো হয়, ইকো বা পরিবেশবান্ধব মসজিদটির ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ভার বিশাল। বছরে প্রায় ৭শ’ হাজার বিভিন্নখাতে ব্যয় হয় বলে জানান তারা। তবে মসজিদটি স্থানীয় জনসাধারণসহ বিশ্বের ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে। তাই প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষে মসজিদটি ভিজিট করতে আসেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধর্মের প্রায় ৫শ‘ জন কলমা পড়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানান মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
প্রফেসর আব্দুল হাকিম তাঁর বক্তব্যে মসজিদ নির্মাণের পটভূমি বর্ণনার পাশাপাশি গ্রীনহাউজ ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বিশ্বকে রক্ষায় ইসলামিক ধ্যানধারণার আলোকে তাদের নেয়া বৃক্ষরোপন কর্মসূচী প্রসঙ্গেও আলোকপাত করেন। বৃক্ষরোপণের উপকারিতা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এ থেকে মানুষ উপকার পাবে, পশুপক্ষি উপকার পাবে, মানুষ বিশ্রাম নিবে। পাশাপাশি শিল্পায়িত পৃথিবীতে বৃক্ষ উষ্ণতা কমাতে যথেষ্ট সহযোগিতা করবে। তিনি বুখারি শরীফ থেকে হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, যে একটি বৃক্ষ রোপন করবে বা বীজ বপন করবে এবং তার ফল কোন মানুষ, পশুপাখি খাবে সেটি ওই ব্যক্তির জন্য সদকায়ে জারিয়াহ হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশ গ্লোবাল ওয়ার্মের হুমকির মুখে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ থেকে পরিত্রাণের জন্য আমাদের এখনই এগিয়ে আসতে হবে। পৃথিবীতে বৃক্ষ নিধন যত হচ্ছে তত বৃক্ষ রোপণ হচ্ছে না তাই পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এ থেকে পরিত্রাণের জন্য বৃক্ষ রোপণের বিকল্প নেই। মরক্কোতে মসজিদের ইমামদের প্রতি বছর দু’সপ্তাহ পরিবেশ রক্ষার ট্রেনিং দেয় হয় যা অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেন এবং পাকিস্তানের ইমরান খান এক বিলিয়ন বৃক্ষ রোপন করতে পারলে আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমরা পারবো বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমদাদুল হক চৌধুরী ক্লাব সদস্যদের মসজিদটি ভিজিটের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মসজিদের পরিচালনা পরিষদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে ব্রিটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটি কর্তৃক বিভিন্ন স্থানে মসজিদসহ উপাসনালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং দাতব্য কাজের কথা উল্লেখ করে এব্যাপারে ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়ার পক্ষ থেকে সবধরণের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় তিনি মসজিদ কমিটির সদস্যদের জন্য লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া ক্লাবের লগো অঙ্কিত সৌজন্য উপহার প্রফেসর আব্দুল হাকিম মুরাদের হাতে তুলে দেন।
‘গিভ আস অ্যা লিফট’ প্রজেক্টের ট্রাস্টি আমিনুল ইসলাম সবাইকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে বলেন, তারা পুরো এই মহত কাজটি ছড়িয়ে দিতে চান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান নিজ নিজ অফিস প্রাঙ্গনে একটি করে বৃক্ষ লাগিয়ে এতে অংশ নেবেন। এ লক্ষ্যে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি। এসময় তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দেড় বিলিয়ন বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর উদাহরণ তুলে ধরেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেকে তাদের ঘরের বাগানে একটি গাছ লাগিয়েও তাতে শরীক হতে পারেন।
জোহরের জামাত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত চলে এই মতবিনিময় সভা। জোহরের নামাজের পর মসজিদের ব্যাক গার্ডেনে একটি বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে সূচনা হয় মিলিয়ন্স বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর। আমন্ত্রিত বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে কর্মসূচীর প্রথম বৃক্ষটি রোপন করেন মসজিদের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ার প্রফেসর আব্দুল হাকিম মুরাদ। প্রফেসর হাকিম সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি আপেল বৃক্ষ রোপন করেন বলেন, আগামী বছর আমরা আপেল পাই খেতে পারবো ইনশাল্লাহ। এসময় তিনি “গিভআসঅ্যালিফট.অর্গ” ওয়েবসাইটে ঢুকে এ মহতি প্রজেক্টে অংশ নেওয়ারও আহবান জানান। এখানে উল্লেখ্য যে, ক্যামব্রিজ মস্ক এন্ড কমিউনিটি আউটরিচের সহায়তায় “গিভ আস অ্যা লিফট” এই বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্যোগ গ্রহণ করে। আর এটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উক্ত মসজিদের সাথে শুরু থেকে জড়িত বিশিষ্ট ব্রিটিশ-বাংলাদেশী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, দ্বিতীয় বৃক্ষটি প্রিন্স উইলিয়ামের হাতে রোপনের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
বৃক্ষরোপণ শেষে মসজিদ ক্যাফেটেরিয়ায় ভিজিটে যাওয়া লণ্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্যদের সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে লাঞ্চে আপ্যায়ন করানো হয়। আপ্যায়ন পর্ব শেষে পুরো মসজিদ ঘুরে দেখান এবং এর নির্মাণ পরিকল্পনা ও ইতিহাস তুলে ধরেন মসজিদটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, ‘গিভ আস অ্যা লিফট’ প্রজেক্টের ট্রাস্টি আমিনুল ইসলাম। তিনি আইকনিক এই মসজিদের স্বপ্ন দেখা থেকে শুরু করে বিশাল বাজেটের নির্মাণ এবং বর্তমান ব্যয়বহুল ব্যবস্থাপনাসহ মসজিদের বাহির ও ভেতরের প্রতিটি বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা তুলে ধরেন। তাঁর বর্ণনায় এমন অনেক বিস্ময়কর ঘটনাও ছিলো যা বাংলা মিডিয়ার সদস্যদের অনেককে বিস্মিত ও অভিভূত করে।
প্রথমে দুটি সবুজ ও পু?িত বাগান এবং সুপরিসর মনোরম ফয়ার পেরিয়ে শুরু হয়েছে মূল মসজিদ। প্রথমটি কমিউনিটি বাগান এবং দ্বিতীয়টি ইসলামিক বাগান। ইসলামিক বাগানকে ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী বেহেশতের চারটি নহর বা নদী দিয়ে বিভক্ত করা হয়েছে। মধ্যখানে রয়েছে হাউসে কাওসারের প্রতীক হিসেবে একটি জল ফোয়ারাও। এছাড়া ওই বাগানের বিশেষ সিকরেট হলো সেখানে বেহেশতে থাকবে এমন কিছু গাছও রয়েছে। তবে গাছগুলোর পরিচিতি খুবই গোপন রাখা হয়েছে, তা শুধু তিন ব্যক্তি যথাক্রমে মসজিদ ট্রাস্টের চেয়ার প্রফেসর আব্দুল হাকিম মুরাদ, বাগানের পরিচর্যাকারী তাঁর স্ত্রী এবং বাগানের ডিজাইনারই শুধু জানেন। বাগানগুলোর ডিজাইন করেছেন প্রিন্স অব ওয়েলস ইন্সটিটিউটের ট্র্যাডিশনাল আর্টস‘র প্রফেসর এমা ক্লার্ক। ষোলটি কাঠের থামের উপর দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদটির মূল অংশের ধারণক্ষমতা এক হাজার। তবে গত ঈদ জামাতে ফয়ার ও আশপাশের রুম মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়েছেন। মাঝখানে একটু ফাঁকা জায়গা রেখে প্রায় উন্মুক্ত একই হলে পুরুষ ও মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা। মহিলাদের নামাজের স্থানের এক পাশে রয়েছে ‘বারাকা খান গ্যালারি’। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে খুবই অল্প বয়সে মৃত্যুবরণকারী বারাকা খান এবং তাঁর বাবা ইকবাল খান মিলে মসজিদের জন্য ১.২ মিলিয়ন পাউন্ড ফান্ড সংগ্রহ করেন এবং তাদের চালু করা একাউন্টের মাধ্যমে এখানো অনুদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নও-মুসলিম নারীও ১ লক্ষ পাউন্ডেরও বেশি মসজিদে দান করেন বলে জানান আমিনুল ইসলাম।
মসজিদ পরিদর্শনের পর ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির কলেজগুলো গাড়িতে করেই ঘুরে দেখেন অভিযাত্রী দলের সদস্যরা। এসময় ক্যামব্রিজ শহরের বিভিন্ন স্থান এবং ইউনিভার্সিটি এলাকার বর্ণনা দেন সেখানকার বাসিন্দা, ক্লাব সদস্য মামুনুর রশীদ। সর্বশেষ স্থানীয় চেস্টারটন এলাকার জিসাস গ্রীন পার্কে কিছু সময়ের জন্য আড্ডা বসে। সেখানে তখন উপস্থিত হন স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির পরিচিতজন বিসিএ ক্যামব্রিজ রিজিওয়নের আহবায়ক আব্দুল হাই, বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আহমদ, বিসিএ ক্যামব্রিজ রিজিওয়নের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাকির চৌধুরী ও ইফতেখার আহমদ এবং নাসির উদ্দিন। তারা সাথে করে নিয়ে আসেন সুস্বাদু বাঙালি খাবার। খাবার শেষে উপস্থিত কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও পুরোদিন সঙ্গ দেওয়ার জন্য সেখানকার সহকর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে লণ্ডনের পথে রওয়ানা দেন বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।