Share |

সিলেটে ক্ষত রেখে নামছে পানি, চরম দুর্ভোগ

সিলেট, ২৩ মে : বন্যায় অনেকটা বিরান সিলেটের নিম্নাঞ্চল। টানা ১১ দিন ধরে পানিবন্দি ১৩ উপজেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষ। রোববার থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে; কিন্তু রেখে যাচ্ছে দগদগে ক্ষত। দেড় সপ্তাহে বন্যার তাণ্ডবে ধসে গেছে বহু বাড়িঘর, সড়ক-সেতু। ভেসে গেছে গবাদি পশু, পুকুরের মাছ, খেতের ফসল। বিভিন্ন বাঁধের অন্তত ৩৫টি স্থানে ভেঙে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখনও বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে গৃহহীন ১০ হাজারের বেশি পরিবার। পর্যাপ্ত ত্রাণের অভাবে বন্যার্তদের মাঝে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সিলেটের জকিগঞ্জে ভাঙা বাঁধ দিয়ে এখনও লোকালয়ে পানি ঢুকছে। সুনামগঞ্জের উজানে থাকা উপজেলাগুলোয় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভাটিতে বাড়ছে পানি। নেত্রকোনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ধান ও অন্যান্য ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।
এদিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানির একটি অংশ নেমে আসছে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা হয়ে। এতে দেশের উত্তরের জেলা নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জে বন্যার পদধ্বনি শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এখন উজানে আরও বৃষ্টি হলে বন্যা কবলিত হতে পারে উত্তরাঞ্চল। যদিও এখন পর্যন্ত বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা এবং এর শাখা নদীগুলো।
বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে-সুরমা, কুশিয়ারা, পুরাতন সুরমা ও সোমেশ্বরী ছয়টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে শুধু সোমেশ্বরীর পানি নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ১৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। সেখানে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে আছে নদীটি। সুরমা নদী কানাইঘাটে বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার আর সিলেটে ১২ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। কুশিয়ারা অমলশীদে ১৩১ ও শেওলায় ৪৭ সেন্টিমিটার ওপরে আছে। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পুরাতন সুরমা ৭ সেন্টিমিটার আর সোমেশ্বরী নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে আছে।