Share |

কর্মক্ষেত্রে বেশি নজরদারির শিকার সংখ্যালঘুরা

লণ্ডন, ৩০ মে: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ান মানুষ ব্রিটেনে কর্মক্ষেত্রে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। শুধু নিয়োগ আর বেতন কাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয় এই বৈষম্য। সম্প্রতি এক জরিপে উঠে এসেছে, কর্মক্ষেত্রে ‘বস’দের নজরদারিতে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় বেশি থাকেন এশিয়ান ও কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীরা। আর এ কারণে তাদের কাজের জায়গায় ঝুঁকিও বেশি। একই সাথে কাজের জায়গায় এমন নজরদারির কারণে অনেক কর্মী মানসিকভাবে সব সময় ভীত থাকেন।
দ্যা ইণ্ডিপেণ্ডেন্ট পরিচালিত একটি জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি তিন জনের একজন বা ৩৩ শতাংশ এশিয়ান ও কৃষ্ণাঙ্গ কর্মী জানিয়েছেন, তারা সব সময়ই বসদের দ্বারা অতিরিক্ত নজরদারির মধ্যে থাকেন।
যেখানে মাত্র ১৯ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ কর্মী বলছেন তাদের বসরা তাদের কাজ সব সময় নজরদারি করেন।
দ্যা ট্রেড ইউনিউন কংগ্রেসের এক জরিপেও উঠে আসে- প্রতি ১৩ জনের মধ্যে ১ জন কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ান কর্মীর বসবাসের স্থান, প্রত্যাহিক চলাফেরা থেকে শুরু করে নিজেদের ব্যবহারের ডিভাইস পর্যন্ত মনিটর করে কর্মস্থল। অথচ শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এমন অভিজ্ঞতার শিকার মাত্র প্রতি ২৫ জনে ১ জন।
দ্য ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের এক মুখপাত্র বলেন, তারা যখন বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেন তখন তারা অবাক করার মতো বেশকিছু বিষয় দেখেন। যেখানে অনেক এশিয়ান কর্মী জানান তাদের কর্মস্থল থেকে তাদের ইমেইল, ফোন কল, কম্পিউটার চেক করা হয়। একই সাথে তারা যখন কাজে থাকেন তখন তাদের প্রতিটি মুহূর্তই সিসিটিভিতে মনিটর করেন সিনিয়র বস।
কর্মস্থলে অনেকটাই নিরবে বৈষম্য ও বর্ণবাদের শিকার হতে হয় এসব এশিয়ান ও কৃষ্ণাঙ্গ কর্মীদের।
ট্রেড ইউনিয়ন কনগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি জানান, মহমারী করোনার পর কর্মস্থলে কৃষ্ণাঙ্গ, এশিয়ান ও সংখ্যালঘু কর্মী সংখ্যা কমেছে। যা একটি বর্ণবাদের বহি:প্রকাশ। কেননা কর্মস্থলে চাকরি গেলে প্রথমেই কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ানদের চাকরি যায়।
এদিকে চলতি বছর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্রিটেনে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় এশিয়ান ও কৃষ্ণাঙ্গরা ১৬ শতাংশ কম বেতন পান। আর এ কারণে একজন কর্মীর পেনশনে যেতে যেতে একজন সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় ২ লাখ ১৭ হাজার পাউণ্ড কম বেতন পান। গবেষকরা বলছেন, চাকরির শুরুতেই এই বেতন বৈষম্য শুরু হয় যা চাকরির প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলতে থাকে। আর এ কারণে বৈষম্য পেনশন সময়কালে এসে অনেকগুণ বাড়ে।
কর্মীরা বলছেন, কেবল গায়ের রঙের কারণে তারা কর্মস্থলে পিছিয়ে থাকেন। তাদের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এমনকি কর্মস্থলে সেরা কাজ না করেও বসের নজরে সবসময়ই শ্বেতাঙ্গরা এগিয়ে থাকেন।