Share |

ব্রিটেনে অ্যাসাইলাম প্রদানে রেকর্ড

পত্রিকা প্রতিবেদন
লণ্ডন, ৩০ মে: যুক্তরাজ্যে এসাইলাম আবেদন অনুমোদনের হার বেড়েছে। ব্রেক্সিট কার্যকরের পর থেকে যুক্তরাজ্যে এসাইলাম আবেদনকারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, এসাইলাম আবেদন অনুমোদনের হার তেমনি বেড়েছে।
ডেইলি এক্সপ্রেসের অনলাইনে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, হোম অফিসের তথ্য মতে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যে এসাইলাম প্রদানের হার গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। কেবল চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৯ হাজার ৩২৭ জন ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। গত এক বছরে প্রাথমিক বিবেচনা করেই তিন চতুর্থাংশ এসলাইলাম আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে, যা প্রায় ৭৫ শতাংশ। আবেদন সফল হওয়ার এই হার ২০২১ সালের তুলনায় বেশি।
৭৫ শতাংশ এসাইলাম আবেদন সফল হওয়ার ঘটনা ১৯৯০ সালের পর সর্বোচ্চ। এছাড়া ৮২ শতাংশ এসাইলাম আবেদনকারীকে যুক্তরাজ্যে ‘রাইট টু স্টে’ দেয়া হয়েছে।
হোম অফিসের তথ্যমতে, সিরিয়ানদের ৯৮ শতাংশ, ইরিত্রিয়ানদের ৯৭ শতাংশ, সুদানের নাগরিকদের ৯৫ শতাংশ, আফগানিস্তানের ৯১ শতাংশ এবং ইরানের নাগরিকদের ৮৮ শতাংশ এসাইলাম আবেদন সফল হয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে মোট এসাইলাম আবেদন জমা পড়েছে ৫৫ হাজার ১৪৬ জনের যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ হাজার বেশি এবং ২০০৩ সালের পর সর্বোচ্চ আবেদন জমা পড়ার রেকর্ড। বর্তমানে এখনও ১ লাখ ১০ হাজার এসাইলাম আবেদন বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাজ্যের মাইগ্রেশন অবজারভার-এর ড. পিটার বলেন, এসাইলাম আবেদন বিবেচনায় দীর্ঘ সময় নেয়া হয়। এখন যারা অপেক্ষামান রয়েছে তাদের আবেদনের সমাধান হতে আরও কত সময় লাগবে তা অনিশ্চিত। যার কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে লাখের বেশি মানুষ।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মাইগ্রেশন নিয়ে কাজ করা চ্যরিটিগুলো বলছে, সরকার অ্যাসাইলাম আবেদন সফল হওয়ার সংখ্যা নিয়ে সাফাই গাইতে চাইতে। বাস্তবতা হলো, সরকার আফগানিস্তান এবং ইউক্রেনের শরণার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার কারণে এসাইলাম আবেদন সফল হওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। বাস্তবে অন্যান্য দেশের আরও বহু মানুষের জীবন হুমকির মুখে থাকলেও তারা সরকারের অনুকম্পা পাচ্ছে না। এছাড়া এসাইলাম আবেদনকারীদের অমানবিকভাবে রুয়াণ্ডায় পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না।